কলকাতা : মুর্শিদাবাদ, ভাঙড়ে ওয়াকফ-অশান্তির আঁচ। অন্যদিকে, বুধবারই সুপ্রিম কোর্টে ওয়াকফ-মামলার শুনানি রয়েছে। এর মধ্যেই এদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইমাম এবং মোয়াজ্জেমদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াকফ ইস্যুতে সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানা কেন্দ্রকে। শিক্ষকদের প্যানেল বাতিল থেকে মুর্শিদাবাদে অশান্তি, সবকিছুর জন্য কেন্দ্রকেই দুষলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, বিজেপির কথায় উত্তেজিত হয়ে কেউ অশান্তি করতে এলে, ঠেকান'। 

ইমামদের আর্জি 

মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, 'আপনারা এলাকায় শান্তি রক্ষা করুন। বিজেপি বাইরের গুন্ডা এনে, এটা ওদের পরিকল্পনা, ওদের আগে পরিকল্পনা ছিল রামনবমীর দিন (অশান্তি) করার। কিন্তু আপনারা সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছেন। আপনারা যোগদানও করেছেন (রামনবমীর মিছিলে)। আপনাদের যদি আন্দোলন করতে হয়, আপনারা ইন্ডোর স্টেডিয়ামে করুন না। ভিতরে করুন, কেউ তো নিষেধ করছে না। কিন্তু বাইরে কেন এসবে ফাঁসছেন? বাইরে (প্রতিবাদ) করবেন না। বিজেপির কোনও ছেলে এসে হিন্দু-মুসলমানকে উস্কালে, আপনাদেরও একটা ভূমিকা নিতে হবে। ইমাম সাহেবকে বলতে হবে, এর মধ্যে আপনারা যাবেন না। আমি এর পরে ভাঙড়েও দেখলাম, কী দরকার ছিল! আমি দেখেছি, যখনই এই ধরনের কোনও ইস্যু হয়, কেউ কেউ নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য রাজনৈতিকভাবে এটার অপব্যবহার করে। আমি এটা পছন্দ করি না। যদি আমাদেরও কেউ করে থাকে, আমি তারও নিন্দা করি। বাংলায় শান্তি থাকলে, তবেই আমরা ভাল থাকব। ' 

বাংলাদেশ-প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রকে নিশানা

ইমাম-মোয়াজ্জেমদের সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, 'অশান্তিতে বাংলাদেশের হাত থাকলে, তার জন্য কে দায়ী? এর জন্য পুরোপুরি কেন্দ্রীয় সরকার দায়ী'।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘আমি উস্কানিমূলক কথা বলতে আসিনি।’ বলেন, 'আমার যেমন যে কোনও মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অধিকার নেই। তেমন আপনারও অধিকার নেই কারও ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় সম্পত্তি অধিকার করা।

চাকরিহারাদের প্রসঙ্গে 

প্রশ্ন তুললেন ওষুধের দাম নিয়েও। 'কেন ক্ষমতায় বসে ওষুধের দাম লাগামছাড়া বাড়ানো হয়েছে? ' । কথা বললেন শিক্ষকদের চাকরি যাওয়ার প্রসঙ্গেও। বললেন, 'টিচারদের নিয়ে ক'দিন নাচানাচি করল। নিজেরাই চাকরি খেল। আবার নিজেরাই বলছে মমতা ব্য়ানার্জি জবাব দাও। আমি বলি তোমরা একূলেও আছ। ওকূলেও আছ। সব কূলেও আছ। তোমরা টিচারদের চাকরি কেন খেলে? তোমাদের লজ্জা হয়নি। ত্রিপুরায় বলেছিলে বিজেপি সরকার আসার পরে চাকরি ফেরত দেব। আজ পর্যন্ত দিয়েছো? ৭ বছর হয়ে গেছে। বরঞ্চ তারা যখন গেছিল তাদের মাথা মেরে ফাটিয়ে দিয়েছো। ইউপিতে ৬৯ হাজার শিক্ষকের চাকরি গেছে।'

মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি ইমাম-মোয়াজ্জেমদের এই বৈঠকে ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও।ইমাম-মোয়াজ্জেমদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, আছেন ফিরহাদ হাকিম