কলকাতা: অশান্ত মুর্শিদাবাদে (Murshidabad Chaos) আসছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বিশেষ টিম গড়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ।
ওয়াকফ ইস্যুতে উত্তাল মুর্শিদাবাদ। প্রাণ গেছে ৩ জনের। আতঙ্কে ভিটেমাটি ছেড়ে কাউকে আশ্রয় নিতে হয়েছে ভিন জেলা মালদায়, কারও ঠাঁই হয়েছে ভিন রাজ্য ঝাড়খণ্ডে। এই প্রেক্ষাপটে মুর্শিদাবাদে যাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ডিজি (তদন্ত বিভাগ)-কে একটি বিশেষ টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩ সপ্তাহের মধ্য়ে তদন্ত রিপোর্ট কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে। ডিজি (তদন্ত বিভাগ)-কে লেখা চিঠিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আইন বিভাগ জানিয়েছে, 'মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদের মাঝে সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত নানা প্রতিবেদনে বাবা-ছেলেকে খুনের অভিযোগ উঠে এসেছে। ঘটনায় পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। এই মর্মে মুর্শিদাবাদে ঘটনাস্থল সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত বিভাগকে টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।'
ওয়াকফ-বিক্ষোভের নামে অশান্তির জেরে নিজভূমে ভিটেহারা হতে হয়েছে বহু পরিবারকে। আর যে পরিবারগুলো বাড়িতে রয়েছে, তাঁদেরও তাড়া করছে আতঙ্ক। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের জাফরাবাদের দাস পরিবারে এবার পয়লা বৈশাখ বলে কিছু নেই। আছে শুধু আতঙ্ক। উন্মত্ত বিক্ষোভকারীদের হিংসার বলি হয়েছেন ধুলিয়ানের জাফরাবাদের বাসিন্দা সত্তর বছরের হরগোবিন্দ দাস এবং তাঁর ছেলে চন্দন দাস (৪০)। ১২ এপ্রিল শনিবার, সকালে আচমকা একদল দুষ্কৃতী ধুলিয়ানের জাফরাবাদে দাস বাড়িতে চড়াও হয়। থান ইট, অস্ত্রের বাড়ি মেরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে তারা। চলে ভাঙচুর, লুঠ। লাথি মেরে ভেঙে দেওয়া হয় মাটির উনুন। সেই সময় ঘরে ছিলেন মহিলা, শিশু-সহ পরিবারের দশ জন। সবার চোখের সামনেই বাবা-ছেলেকে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। রাস্তায় ফেলে কুপিয়ে, থেঁতলে খুন করা হয় বাবা হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে। সেই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন পর ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই বিষয়ে গতকাল এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার বলেন, "হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাস, যাঁরা সম্পর্কে বাবা এবং ছেলে, এই মামলার তদন্তে আমরা একটা বিশেষ তদন্তকারী দল, SIT গঠন করি। আমরা এলাকা থেকে গত দু'দিনে বিস্তারিত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। সেই সিসিটিভি ফুটেজ প্রত্যেকটা আমরা খতিয়ে দেখি এবং বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতীকে আমরা চিহ্নিত করতে সক্ষম হই, যাঁরা খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। গত রাতে, রাতভর অভিযান চালিয়ে, এদের মধ্যে ২ জন দুষ্কৃতীকে আমরা গ্রেফতার করতে পেরেছি, যারা এই খুনের ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিল।''