শিবাশিস মৌলিক , হাওড়া : নবান্নে শনিবার বৈঠকে বসলেন রেলমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী। আর এদিন নবান্নে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে হাজির হলেন একাধিক তৃণমূল বিধায়কে। এদিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ ( Rathin Ghosh ) এবং বাগনানের তৃণমূল বিধায়ক অরুণাভ সেন ( Arunava Sen )। এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর ( Ashwini Vaishnaw) বৈঠকে আগামী দিনে এ রাজ্যে নানা রেল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর ঘোষণা হয় ১ লক্ষ টাকা বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রী।
প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিতির প্রসঙ্গে মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ রথীন ঘোষ বলেন,“এলাকার কাজ নিয়েই আলোচনা করতে এসেছি।” অন্যদিকে বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ সেন জানান, “ এদিন ব্যস্ততার কারণেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় আসতে পারেননি।”
এর আগেও নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির ছিলেন কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিম ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়রা ( Kunal Ghosh, Firhad Hakim এবং Nayana Bandyopadhyay) । গত ৩ তারিখ নবান্নে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়া জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে মোট ২০ জন তৃণমূল বিধায়ক অংশ নেন। সেই তালিকায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত একাধিক নেতার উপস্থিতি বিশেষনজর কাড়ে। যদিও প্রত্যেকেই জানান, তাঁরা নিজেদের এলাকার সমস্যা, ভোট পরবর্তীতে কর্মীদের ঘরে ফেরানো প্রসঙ্গে কথা বলেন।
আরও পড়ুন : মুখ্যমন্ত্রী-রেলমন্ত্রীর বৈঠকের পরই জন্য বড় ঘোষণা নবান্ন থেকে
এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিগত তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেলমন্ত্রী বলেন, UPA সরকারের সময় যেখানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী একটি ভাল ভূমিকা পালন করতেন, সেসময়ও বাংলা রেলের জন্য মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকা পেত। মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকা। আজ মোদিজি ১৪ হাজার কোটি টাকা রেলের জন্য দেন বাংলার উন্নয়নে। ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকার বাজেট ২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য। দুর্ভাগ্যবশত এখনও পর্যন্ত যতই চেষ্টা করুন, তৃণমূলের যে বিগত সরকার ছিল তাতে কাজের জন্য অনুমতিই মিলত না।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগের সরকার রেল দফতরের সঙ্গে কথা বলেনি। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। মাননীয় রেলমন্ত্রী অনেকবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি করেছেন। রেলবোর্ড মুখ্য সচিবকে চিঠি করেছেন। কিন্তু ওরা সাড়া দেয়নি। মানে ওরা (তৃণমূল সরকার)সহযোগিতা করেনি। চিঠির উত্তর পর্যন্ত দেয়নি।
২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে দীর্ঘদিন রেলমন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কিন্তু তাঁর আমলেই পশ্চিমবঙ্গে রেলের কাজে বারবার উঠেছে অসহযোগিতার অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পর শনিবার নবান্নে বৈঠক করে তা নিয়েই সুর চড়ালেন বর্তমান রেলমন্ত্রী।
