কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার তিনি জানান, যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে । ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর তথ্য আপলোড করতে হয়েছে। দুপুর ১ টা থেকে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। সরকারের টাকা উপযুক্ত লোকেরাই পাবেন, পরিষ্কার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি কথা দেন,  আপলোড হওয়া যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা পৌঁছয়নি, তাঁরাও এদিনবিকেলের মধ্যেই অর্থ ট্রান্সফার হয়ে যাবে। 

Continues below advertisement

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৩ জুন প্রথম পর্যায়ে ২৭ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল। এরপর ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর তথ্য যাচাই ও আপলোড করার কাজ সম্পন্ন করা হয়।

২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল, ১.৩০ কোটির বেশি যোগ্য

  • মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আবেদনপত্র যাচাইয়ের পর ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। ফলে ১ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি আবেদনকারীকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, "আজ আমরা প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করেছি। বাকিদের টাকাও আজ বিকেলের মধ্যে পৌঁছে যাবে। আমরা একজনকেও বাদ দেব না।"

পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল—সব উপভোক্তাই টাকা পাচ্ছেন

মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র সমতল নয়, পাহাড়ি এলাকার নেপালি ও গোর্খা সম্প্রদায়ের যোগ্য উপভোক্তারাও এই প্রকল্পের আওতায় টাকা পেয়েছেন।তাঁর কথায়, "সরকারের টাকা প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই পাবেন, এটাই আমাদের লক্ষ্য। কোনও পক্ষপাত করা হয়নি।"

Continues below advertisement

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের যাচাই নিয়েও মন্তব্য

অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে টাকা নয়ছয় নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন এমন প্রায় ২ কোটি অ্যাকাউন্ট যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ লক্ষ অ্যাকাউন্ট এমন ব্যক্তিদের, যাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন, মৃত বা অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১০ লক্ষ পুরুষের নামও ওই তালিকায় ছিল বলে দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জনগণের করের টাকা অযোগ্য বা অভারতীয় ব্যক্তিদের দেওয়া যায় না, তাই যাচাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।

CAA ও ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীদের জন্যও ঘোষণা

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, যাঁরা CAA-তে আবেদন করেছেন, তাঁদের অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা বন্ধ হবে না। একইসঙ্গে তিনি জানান, যাঁদের মামলা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তাঁদের আবেদন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে।

১২ পাতার ফর্ম নিয়ে বিতর্কের জবাব

অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনারও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "১২ পাতার ফর্ম বলা হলেও বাস্তবে আবেদনকারীদের মাত্র ৪ পাতার তথ্য পূরণ করতে হয়েছে।" তিনি জানান, এই তথ্যভাণ্ডার ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে।

জনকল্যাণ শিবিরে আবেদনকারীদেরও টাকা

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, জনকল্যাণ শিবিরে আবেদন করা ৮ লক্ষ ১৫ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টেও ইতিমধ্যেই টাকা পাঠানো হয়েছে।সরকারের দাবি, ধাপে ধাপে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে এবং কোনও যোগ্য আবেদনকারীকে বঞ্চিত করা হবে না।