শিবাশিস মৌলিক, নন্দীগ্রাম : মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার ভোট দিতে নন্দীগ্রামে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। টোটোয় চড়ে বুথে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামের নন্দনায়েকবারের ভোটার তিনি। সেখানে বুথে গিয়ে দিলেন ভোট । প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভোট দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ শান্তিকুঞ্জের বাড়ি থেকে বেরোন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে গাড়ি করে টেঙ্গুয়ায় তাঁর অফিসে যান । । এই অফিস থেকে কিছুটা দূরেই নন্দনায়কবার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুখ্যমন্ত্রীর ভোটকেন্দ্র। অফিস থেকে বেরিয়ে টোটোয় চড়ে সেখানে যান তিনি। বুথে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ভোট দিয়ে বেরিয়ে স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করলেন মুখ্যমন্ত্রী । উৎসাহীদের মধ্যে কয়েকজন এগিয়ে এলে তাঁদের সঙ্গে তুললেন সেলফিও।
ভোটকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কোনও কথা বললেন না। বললেন না রাজনীতি নিয়ে কোনও কথাও। বরম নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে বরাবরের মতোই থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ' নন্দনায়কবার ও নন্দীগ্রামের প্রতি আমার অঙ্গীকার ছিল, আছে, থাকবে । জগদ্ধাত্রী পুজোয় প্রতিবার আসি, এবারও আসব। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে যেভাবে মানুষ আমাকে দেখেছেন, সেভাবেই দেখতে পাবেন। পোশাক থেকে পায়ের জুতো, কোনও কিছুতেই পরিবর্তন হয়নি, হবেও না। দল ও জনগণ যে দায়িত্ব দিয়েছে, নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করার চেষ্টা করি। দায়িত্ব বদলালেও আমার ব্যক্তিগত জীবনে কোনও পরিবর্তন হবে না', বললেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে তিনি জানালেন, ভোট চলছে, তাই তিনি ভোটের ফল নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না। তবে আশা রাখছেন ৮৫ শতাংশ ভোট পড়বে। মুখ্যমন্ত্রী বললেন, তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হলেও আমৃত্যু নন্দীগ্রামের ভোটারই থাকবেন।
এরপর নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় নিজের অফিসে যান মুখ্যমন্ত্রী। সকাল ১১টা পর্যন্ত ৪৪% ভোট পড়েছে নন্দীগ্রামে । সকাল ১১টা পর্যন্ত ৩৯% ভোট পড়েছে রেজিনগরে। এদিন, নন্দীগ্রামে ভোটে কারচুপি ও অশান্তির তৈরির আশঙ্কা করে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানায় কংগ্রেস। তাঁদের অভিযোগ, খেজুরি থেকে নন্দীগ্রামে দিকে প্রায় ৮০–৯০টি বাইকে সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা ঢুকছে। খেজুরি এবং ভাঙাবেড়া-সোনাচূড়া এলাকায় অবিলম্বে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি তুলে কমিশনের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেস। নন্দীগ্রামের ২১৬ নম্বর বুথে রিগিংয়ের অভিযোগ তুলেছে তারা।
