বিটন চক্রবর্তী, পূর্ব মেদিনীপুর : মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে, সরকারের দায়িত্ব নিয়ে শনিবার থেকেই জেলা সফরে বের হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমেই গেলেন দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডায়মন্ড হারবারে। অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেরা হিসেবেই পরিচিত ছিল এই এলাকা। সেখানেই উঠল শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে স্লোগান। সেখানে গিয়ে 'ভয় আউট, ভরসা ইন' বার্তা। এখান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর গন্তব্য নন্দীগ্রাম। সংবিধানের নিয়ম মেনে দুটি কেন্দ্র থেকে জিতে কেউ বিধানসভায় গেলেও, একটি কেন্দ্র থেকে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। তাই নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে শুক্রবারই ইস্তফা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম অনুসারে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন করতে হবে। নন্দীগ্রামে এসে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে কে পদ্মচিহ্নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেই নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মনে করা হচ্ছে এদিনই তাই নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসন থেকে ইস্তফা দেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে। তবে উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে কে প্রার্থী হবেন, তা এখনও বিজেপি বা অন্য কোনো দলের তরফে ঘোষণা করা হয়নি। নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়ার পর শুভেন্দু অধিকারী জানান, নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কোনও নির্বাচিত পদের ওপর নির্ভরশীল নয় । তিনি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই সম্পর্ক অটুট রাখবেন। তিনি জানান, তিনি যখন নন্দীগ্রামের বিধায়ক ছিলেনও না, তখনও সেখানকার মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি নন্দীগ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, উপনির্বাচনে যে প্রার্থীই দাঁড়ান মা কেন, নন্দীগ্রামের দায়িত্ব তাঁরই থাকবে। সেখানকার মানুষ কোনওদিন বুঝবেন না যে শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের বিধায়ক নন। সেখানকার মানুষ শুভেন্দু অধিকারীর অভাব বুঝতে দেবেন না এবং এলাকার উন্নয়ন ও উদযাপনের সঙ্গে তিনি সবসময় যুক্ত থাকবেন।
শনিবার ডায়মন্ড হারবারের মানুষকে তিনি বার্তা দেন, স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন, আজ থেকে রাজ্যের কোথাও তোলাবাজি চলবে না। হকার, টোটো, অটো, টোল— কোনও ক্ষেত্রেই বেআইনিভাবে টাকা তোলা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “আগে শাসকের আইন ছিল, এখন আইনের শাসন চলবে।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনও ক্ষেত্রেই বৈধ রসিদ ছাড়া কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া যাবে না। কেউ জোর করে টাকা চাইতে এলে সাধারণ মানুষকে সরাসরি অভিযোগ জানানোর আবেদনও করেছেন তিনি। সরকারি সূত্রে খবর, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে এবং পুলিশ কড়া হাতে ব্যবস্থা নেবে। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী এক মাস পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। কোথাও তোলাবাজির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
আরও পড়ুন : ভোটের প্রচারে লাগাতার হুমকি, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের FIR, কোন কোন ধারায় অভিযোগ?
