সরকারি নির্দেশিকা মেনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাইকের আওয়াজ কমানোর অনুরোধ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল আসানসোলে। ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোলের জাহাঙ্গির মহল্লায় ( Jahangir Mohalla ) এলাকায়। এলাকাটি আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের (Asansol-Durgapur Police Commissionerate) আওতায় পড়ে।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে -এ আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ এলাকায় গিয়ে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাইকের আওয়াজ কম করতে বলে। সরকারি নির্দেশিকা মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। অভিযোগ, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে দু’টি গোষ্ঠী তৈরি হয় এবং তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গোলমাল থামাতে এগিয়ে যায় পুলিশ। সেই সময় স্থানীয় পুলিশ আউটপোস্ট লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বচসা থেকে খুব শিগগিরি এলাকা জুড়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। একদল উত্তেজিত জনতা ইট ও পাথর দিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। ভেতর ও বাইরে একাধিক সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করে। পুলিশের অনেক গাড়ি ও পার্ক করা মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয় হয় বলে খবর। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি অটোরিকশার সামনের কাচ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে জানান, কিছু ছেলে এসে থানা ভাঙচুর করে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের এটা করা উচিত হয়নি। এর পরিবর্তে তাদের বসে আলোচনা করা উচিত ছিল। তারা অন্যায় করেছে। থানা আক্রমণ করা উচিত হয়নি। এখানকার মানুষের প্রশাসনের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই।
রাজ্যজুড়ে ধর্মীয় স্থান ও অনুষ্ঠানে অনুমোদিত শব্দসীমার বাইরে লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার একদিনের মধ্যেই এই ঘটনা । মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও জানিয়েছেন, জাতি-ধর্ম-রাজনৈতিক রং না দেখেই আইনমাফিক ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনও মতেই শব্দদূষণ, পথ আটকে অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় কর্মসূচি বরদাস্ত করা যাবে না।
আরও পড়ুন : ভোটের প্রচারে লাগাতার হুমকি, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের FIR, কোন কোন ধারায় অভিযোগ?
