কলকাতা: নজরে তৃণমূল আমলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। তার তদন্তে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে কমিশন গঠন করল রাজ্য় সরকার। কমিশনের সদস্য় সচিব করা হয়েছে IPS অফিসার কে জয়রামনকে।প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে গঠিত কমিশনের সদস্য় সচিব করা হয়েছে IPS অফিসার কে জয়রামনকে। পুলিশ মহলে সৎ ও অত্য়ন্ত কড়া IPS অফিসার হিসাবে পরিচিত কে জয়রামন। শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্তে নেমে ২০১৩-র নভেম্বর শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের প্রাক্তন CEO, IAS অফিসার গোদালা কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করেছিলেন শিলিগুড়ির তৎকালীন পুলিশ কমিশনার কালিয়াপ্পন জয়রামন।

Continues below advertisement

এবার কমিশনে কে জয়রামন

একজন IAS অফিসারকে গ্রেফতারের ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গেছিল রাজ্য়ে! ক্ষুব্ধ হয়েছিল নবান্ন। সূত্রের খবর, নবান্নের অনুমতি না নিয়েই IAS কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করায়, IPS অফিসার জয়রামনকে সঙ্গে সঙ্গে পদ থেকে সরিয়ে কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। শুধু জয়রামনকে সরানোই নয়, সে সময় ধৃত কিরণ কুমারের জামিনেরও বিরোধিতা করেননি সরকারি আইনজীবী! তারপর থেকে বিশেষ কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আর দেওয়া হয়নি আইপিএস অফিসার   কালিয়াপ্পন জয়রামনকে। কিন্তু, নির্বাচন ঘোষণা হতেই উত্তরবঙ্গের ADG সুকেশ কুমার জৈনকে সরিয়ে, তাঁরা জায়গায় কে জয়রামনকে দায়িত্ব দেয় নির্বাচন কমিশন। এবার সেই IPS অফিসার কে জয়রামনকেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তের জন্য় গঠিত কমিশনের সদস্য় সচিব করল বিজেপি সরকার।

Continues below advertisement

ফেরানো হল দময়ন্তী সেনকেও!

রাজ্যে সরকার বদলের পরেই পুলিশের দফতরে একাধিক রদবদল হয়েছে। আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল জল্পনা। অবশেষে আজ সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ল, নারী-শিশু নির্যাতনে তদন্ত কমিটিতে IPS দময়ন্তী সেন (Damayanti Sen)। একাধিকবার পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দফতর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। পার্ক স্ট্রিটকাণ্ডের তদন্তের গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তারপর থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় একাধিক দায়িত্বভার থেকে। দুঁদে অফিসার হওয়া সত্ত্বেও তেমন গুরুত্বপূর্ণ মামলার দায়িত্ব পাননি দময়ন্তী। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পরেই, ফেরানো হল দময়ন্তী সেনকে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়েই গঠন করা হয়েছে এই নারী-শিশু নির্যাতনে তদন্ত কমিটি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নারী-শিশুদের উপর অত্যাচারের তদন্ত করতে, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জনশুনানির মতো থানাতেও অভিযোগ নেবে কমিটি। নির্দিষ্ট কয়েকটি মামলা ছাড়া অন্য মামলা দেখবে এই কমিটি। প্রয়োজনে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া মামলাও খতিয়ে দেখা হবে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই কমিটিতেই থাকছেন দময়ন্তী সেন। নারী-শিশু নির্যাতনের মামলার তদন্ত, কমিটির সদস্য IPS দময়ন্তী সেন।

আরও পড়ুন: Singur Movement: বদলে যাবে সিলেবাস? ইতিহাস থেকে বাদ যাবে সিঙ্গুর আন্দোলন? বিকাশ ভবনের বৈঠকের পরেই বড় ইঙ্গিত!