কলকাতা : আরও বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলতার পর নোদাখালিতেও আমফান দুর্নীতির অভিযোগ। নোদাখালি থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমফান দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করলেন ববি। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস, ওরফে ববির। বজবজ-২ নম্বর ব্লকে আমফানের ত্রাণের প্রায় ৩০ কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তৎকালীন প্রশাসনিক আধিকারিকদের নামেও অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। সেই এলাকার তৎকালীন পঞ্চায়েত প্রধান-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে অভিযোগপত্রে। নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান অভিজিৎ দাস। এর আগে ফলতা থানাতেও আমফানের ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা।
উল্লেখ্য, এর আগেও তাঁরই লোকসভা কেন্দ্রে তাঁর বিরুদ্ধেই কোটি কোটি টাকার ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগে FIR দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। কোথাও একই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে একাধিকবার টাকা ঢুকেছে। আবার কোথাও একই বাড়ি দেখিয়ে নেওয়া হয়েছে একাধিকবার আর্থিক সাহায্য। লঙ্ঘন করা হয়েছে 'একটি বাড়ি, একজনের অনুদান' নীতিকেও। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় আমফানের ত্রাণে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে FIR দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগপত্রে নাম ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
আরও পড়ুন - ২৫০ কোটি টাকার স্ক্যাম ! কীভাবে হয়েছিল আমফান দুর্নীতি ? সবটা ফাঁস করলেন বিজেপি নেতা ববি
২০২০ সালের ২০ মে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সুন্দরবন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভেঙে পড়ে অগণিত বাড়ি। দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করে সরকার। দুটি ভাগে ভাগ করা হয় উপভোক্তাদের। যাদের বাড়ি সমপূর্ণ ভেঙে যায়, তাদের ক্যাটিগরি A-তে রেখে এককালীন ২০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অপরদিকে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের B ক্যাটিগরিতে রেখে এককালীন ৫ হাজার টাকা সাহায্য ঘোষণা করে সরকার। 'ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার' বা 'DBT'-র মাধ্যমে ত্রাণের সেই অর্থ পৌঁছে যায় সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। অভিযোগ, সেই সময়ের উপভোক্তাদের তথ্য খতিয়ে দেখে, একাধিক বেনিয়ম সামনে এসেছে। যেমন উপভোক্তার তালিকায় একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার রয়েছে। এক ফোন নম্বর এবং এক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একাধিকবার টাকা ঢুকেছে। অনেক সন্দেহজনক উপভোক্তাও রয়েছে তালিকায়। আবার একটি সমপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি দেখিয়েও একাধিকবার টাকা তোলা হয়েছে। 'একটি বাড়ি, একটি অনুদান' নীতি উপেক্ষা করে, একই বাড়ির ছাদের নীচে বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ত্রাণের টাকা গেছে। পুলিশের দাবি, সরকারি পোর্টালে দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার অনুমোদিত আবেদনের ক্ষেত্রে সুপারিশকারী হিসেবে নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
