কোচবিহার: কোচবিহারের পুণ্ডিবাড়িতে অবশেষে উদ্ধার হল জলে ভেসে যাওয়া গন্ডার। শুক্রবার সকালেই এলাকার ২ বাসিন্দাকে আহত করে গন্ডারটি। উত্তরবঙ্গে বিপর্যয়ের ফলে তোর্সার জলে ভেসে চলে এসেছিল গন্ডারটি। প্রায় ৫ দিন ধরে গন্ডারটিকে ধরার চেষ্টা করছিল বন দফতর। আজ ঘুম পাড়ানি গুলি ছুড়ে গন্ডারটিকে অজ্ঞান করা হয়। তারপর, জেসিবি দিয়ে উদ্ধার করা হয়। ছাড়া হল চিলাপাতার জঙ্গলে। 

Continues below advertisement

সূত্রের খবর, বন দফতরের আধিকারিরা বিগত পাঁচদিন ধরেই এই গন্ডারটিকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছিল। প্রথমে মাথাভাঙ্গাতে ভেসে এসেছিল সেটি। এরপর পুণ্ডিবাড়িতে এসে ২ জনকে আহত করে গন্ডারটি। বন দফতরের আধিকারিক থেকে পুলিশ প্রতিনিয়ত নজর রাখছিলেন গন্ডারটির ওপর। পুণ্ডিবাড়ি বাজার এলকার পাশে হঠাৎ এদিন গন্ডারটিকে দেখা যায়। এরপর দমকল, পুলিশ সবাই আসে, গন্ডারটিতে ধরা সম্ভব হয়। এরপরই ট্রাক্টর নিয়ে আসা হয়। গন্ডারটিকে জলদাপাড়ায় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতটাই ওজন ছিল যে গন্ডারটিকে ওঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। সাধারণ মানুষরাও হাত লাগান গন্ডারটিকে বাগে আনার জন্য। জলদাপাড়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর গন্ডারটিতে চিলাপাতার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ছবির মতো সুন্দর মিরিক এখন যেন ধ্বংসপুরী। এক রাতের দুর্যোগ বদলে দিয়েছে সেখানকার মানুষের জীবনযাপন। মিরিকের এই ছবি পর্যটকদের কাছে কার্যত অচেনা। বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে মিরিকের পর্যটনেও। তাতেই কার্যত কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ব্য়বসায়ীদের। তাঁদের দাবি, এই সময়ে অন্য়ান্য় বছর যে পরিমাণ ভিড় থাকে, বিপর্যয়ের পর শেষ কয়েকদিনে সেই তুলনায় অনেক কম সংখ্য়ক পর্যটক আসছেন মিরিকে। অনেকে টিকিট বাতিল করছেন। তবে রাস্তার হাল ঠিক হলে পরিস্থিতি বদলাবে এমনটাই আশা করছেন হোটেল ব্যাবসায়ী থেকে পর্যটকরা। ধারাগাঁও, মিরিকের এই ছোট্ট গ্রামের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত। মৃত্যুও হয়েছে অনেকের। বাড়িগুলোতে পলিমাটির স্তূপ। ঘর বলে কিছু নেই। জিনিসপত্রের ওপর পলিমাটির চাদর। দরজা দিয়ে নয়, কেউ কেউ জানলা দিয়ে ঘরে ঢুকেছেন। সরকার পাশে দাঁড়াক, চাইছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। 

Continues below advertisement

পর্যটনের পাশাপাশি পাহাড়ের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড চা শিল্প। কিন্তু, প্রকৃতির রুদ্র রোষে, ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরবঙ্গের একাধিক চা বাগান। পাহাড়ের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় এই চা বাগান। টানা বৃষ্টিতে কর্মক্ষেত্রের অন্যতম এই চা বাগানের অবস্থা সঙ্গীন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। একের পর এক চায়ের বাগানে ধস হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত।