কোচবিহার: ছাব্বিশে পা দিতেই একদিকে ভোটের হাওয়া আকাশে বাতাসে। তার উপর একইদিনে একদিকে বারুইপুরের সভা থেকে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঠিক এমনই একদিনে, তৃণমূলের সরকারের অধীনে  বাংলার মানুষের বর্তমান অবস্থা ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার খারাপ না, যারা পাচ্ছেন নিশ্চয়ই নেবেন, কিন্তু..', কেন বললেন এই অভিজ্ঞ নেতা ?

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, বারুইপুরের ব়্যাম্পে ''ভূত'' হাঁটিয়ে চমক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের !

Continues below advertisement

 অভিষেকের সভার দিনেই, কোচবিহারের সভা থেকে রাজ্য থেকে তৃণমূলকে হঠিয়ে দিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক মিঠুন চক্রবর্তীর। তিনি বলেন, লিমিট ক্রস করলেই ১ হাজার টাকা ফাইন। ওইটা তুলে এনে আমার ঘরে দিচ্ছে। এই হল আপনার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। যাই হোক লক্ষ্মীর ভাণ্ডার খারাপ নয়, যারা পাচ্ছেন, নেবেন, নিশ্চয়ই নেবেন, কারণ এটা আপনার টাকা, আপনাদের ট্যাক্সের টাকা। আপনাকে নিতেই হবে সেই টাকা। কিন্তু আমার কাছে প্রশ্ন আছে, যারা এই টাকা নিচ্ছেন, খুব ভাল। কিন্তু আপনার সন্তান, যে যদি বিবেক নিয়ে বেঁচে থাকে, অন্য কুলাঙ্গারদের মতো, দুর্নীতি করতে চায় না। সে তো বেকার বসে আছে। আপনার স্বামী, যে দুর্নীতি করতে চায় না, বেকার বসে আছে। আমরা বাবা-মা -শ্বশুর শাশুড়ি অসুস্থ। আমাদের প্রাইম মিনিষ্টার মহাশয় ৫ লক্ষ টাকা করে, সবার জন্য আয়ুষ্মান ভারত করেছেন। কিন্তু সেটা দিতেই দিচ্ছেন না এখানে। ..এখানে আয়ুষ্মান ভারত এখানে করতে দেবেন না, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর নাম বেড়ে যাবে। কিন্তু এতগুলি লোক কষ্ট পাবে, তাতে ওনার কোনও খেয়াল নেই। 

এরপরে কটাক্ষ করে বলেন,' ..আপনারা পান না, কেন পান না, আরও ভোট দিয়ে আনুন, তাহলে আরও পাবেন না। এখন কথা হচ্ছে, আয়ুষ্মান ভারত, ৫ লক্ষ টাকা করে পাবেন আপনারা। কিন্তু আনতেই দিচ্ছে না। কিন্তু এই সরকার এলে প্রথম কাজ আমি করব, আয়ুষ্মান ভারতকে চালু করাব। তাহলে কী অবস্থা দেখুন।  একদিকে বিবেক, আরেক দিকে বিবেকহীন। যারা তৃণমূলের কার্যকর্তারা, স্পেশালি যারা হিন্দু কার্যকর্তারা, যারা এসব দুর্নীতি করে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের তো বিবেক বলে তো কোনও জিনিসই নেই। চুরি করলেও বিবেক নেই। দুর্নীতি করলেও বিবেক নেই। এখানে কী আছে বলুন তো ?! না উদ্যোগ আছে, না কারখানা আছে। না চাকরির ব্যবস্থা আছে, না শিক্ষা আছে। না স্বাস্থ্য আছে। কিছু নেই। দুর্নীতি ছাড়া এই রাজ্যে কিছু নেই। তাহলে কী করব, আমরা তাহলে ? একটাই কাজ আমাদের, এক ছাতার নীচে সবাইকে এসে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই তৃণমূল সরকারকে হঠাতে হবে। সেটাই হবে আমাদের এই বছরের সবথেকে বড় প্রতিজ্ঞা। দ্বিতীয়ত আমি বলছি, আমার এখানে উপস্থিত, যতগুলি আমার কার্যকর্তা আছেন,  যদি কারও সঙ্গে কোনও মনোমালিন্যও থাকে, দয়া করে ইলেকশন অবধি সেইগুলি মিটিয়ে নিন। কারও মধ্যে কোনও মনোমালিন্য রাখবেন না। সবাই মিলে একসঙ্গে ভোট করুন।