শুভেন্দু ভট্টাচার্য, মাথাভাঙা : মাথাভাঙার তৃণমূল কাউন্সিলর চন্দ্রশেখর রায় বসুনিয়াকে গ্রেফতার করল মাথাভাঙা থানার পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ১২টা নাগাদ মাথাভাঙা শহরের দক্ষিণপাড়া এলাকায় বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়ানো-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারির পর চন্দ্রশেখর রায় বসুনিয়া বলেন, "নতুন সরকারের উপহার পেলাম। ২০২১, ২০২৪ সালে ভোটের পরে নাকি বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। সেই মামলায় আমাকে গ্রেফতার করেছে।" যদিও সেইসব ঘটনায় তিনি যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।
কোথাও তোলাবাজি তো কোথাও হুমকি-মারধরের অভিযোগ...পালাবদলের পরই একাধিক জেলা থেকে পরপর গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। সেই তালিকায় যেমন রয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর। তেমনই রয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান।
সরকার বদলেছে। বদলাচ্ছে পরিস্থিতি। এই আবহে নানা অভিযোগে, পুলিশের জালে ধরা পড়ছেন একের পর এক তৃণমূল নেতা। হুমকি-গালিগালাজ এমনকী কলার ধরে টানা হেঁচড়া, চূড়ান্ত হেনস্থা। অভিযোগ, ভোটের আগে দাদাগিরি করতে দেখা যেত ,হুগলির বৈদ্য়বাটি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রাজু পাড়ুই ওরফে চণ্ডে-কে। ভাইরাল হয়েছে সেরকম কিছু ভিডিও। রাজ্যে পালাবদল হতেই সেই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে ২৬ এপ্রিল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু বিজেপি কর্মীর সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় তাঁর। এরপরই দেখা যায়, বিজেপি কর্মীদের গালিগালাজের পাশাপাশি, কলার ধরে টানা হেঁচড়া, এমনকী একাধিকবার ধাক্কা মারছেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, নিজেই ফেসবুকে এই ভিডিও পোস্ট করেন তৃণমূল কাউন্সিলর। পরে তা ভাইরাল হয়। এরপর বিজেপি অভিযোগ জানালে, তাঁকে শ্রীরামপুর থানায় ডাকা হয়। তবে তখন তাঁকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। পালাবদলের পর শনিবার বিজেপির তরফ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হলে তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করে শ্রীরামপুর থানা।
অন্যদিকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন কৃষ্ণনগর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ, তৃণমূল নেতা সরজিৎ বিশ্বাস। শনিবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে কোতয়ালি থানার পুলিশ। তোলাবাজি, হুমকি, মারধর-সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে হুগলির তৃণমূল নেতা ও পঞ্চায়েত প্রধান রাজদীপ দে। তিনি তৃণমূল পরিচালিত কামারপুকুর পঞ্চায়েতের প্রধান। স্থানীয় সূত্রে দাবি, তারকেশ্বরের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী রামেন্দু সিংহ রায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তিনি।
