বিজেন্দ্র সিংহ, নয়াদিল্লি : সুপ্রিম কোর্টের ১১ নম্বর এজলাসে চলছিল রায়দান। লক্ষ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভাগ্যে কী আছে? সকলের নজর ছিল বিচারপতি সঞ্জয় করোল, বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রর বেঞ্চের দিকে। রায়ের দিকে তাকিয়ে ছিল এ রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। অবশেষে এল সেই প্রতীক্ষিত রায়। সুপ্রিম কোর্ট DA মামলা নিয়ে বড় নির্দেশ দিল রাজ্যকে। একেবারে তারিখ বেঁধে দিয়ে বলল, এখনই বকেয়া DA-র ২৫% দিয়ে দিতে হবে। ৩১ মার্চের মধ্যে DA দিয়ে দিতে হবে। 

এই রায় সামনে আসার পরই রাজ্যকে কড়া ভাষায় নিশানা করে পোস্ট করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পোস্টে লিখলেন, 'ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করলেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল প্রমাণিত হলেন, নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্যে বারংবার বলে এসেছেন যে, "ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়"। আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিলো যে ডিএ হলো কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ ন্যায্য অধিকার কোনো অনুদান নয়। ' 

শুভেন্দু অধিকারী লিখলেন, এই রাজ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এসেছে। বহু বছরের সংগ্রামের পর অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা তাদের ন্যায্য পাওনা পেতে চলেছে।  আদালতের নির্দেশেই তা সম্ভব হতে চলেছে।  মহার্ঘ ভাতা পেতে চলেছে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে 'অসংবেদনশীল সরকার' বলে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী লিখলেন, এই সরকার দীর্ঘ দিন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের তাঁদের প্রাপ্য অধিকার দেয়নি। রাজ্য সরকারি কর্মীদের সুদীর্ঘ আন্দোলনকে কুর্নিশ জানিয়ে শুভেন্দু লিখলেন, 'একের পর এক আইনি লড়াই জেতার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করে দেশের তাবড় আইনজীবীদের দাঁড় করিয়েছেন শুধুমাত্র প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে' । রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। 
 
বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উপকৃত হবে ১২ লক্ষ পরিবার বছরের পর বছর  ন্যায্য মহার্ঘ ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকার সুপ্রিম কোর্টের এই রায়-এ খুশির হাওয়া প্রতিবাদী কর্মচারীদের মধ্যে। ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া না মেটালে পথে নামার হুঁশিয়ারি দিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।
আজ বুধবারই রাজ্য বাজেট।  সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া DA দিতে রাজ্যের মোট খরচ হবে ৪৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। তাই মনে করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেটে থাকবে বাড়তি টাকার সংস্থান। আশাবাদী কর্মচারীরা।