উমেশ তামাং, দার্জিলিং : বাংলাজুড়ে চলছে প্রবল দুর্যোগ। উত্তর থেকে দক্ষিণ , তুমুল বৃ্ষ্টিতে ভিজছে জেলা থেকে জেলা। টানা বৃষ্টিতে ভাসছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা। বিপদের মুখে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকাও। একটানা ভারী বৃষ্টিতে ফুলে ফেঁপে উঠেছে পাহাড়ি নদী তিস্তা। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে জল।

খরস্রোতা তিস্তা জলে ভেসেছে সড়ক। আলগা হচ্ছে পাহাড়ের মাটি। টানা বৃষ্টির জেরে প্রতি মুহূর্তে ধস নামার আশঙ্কা। ফুঁসছে নদী।  কালিম্পং-দার্জিলিং সড়ক এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রবিঝোরা ও ২৯ মাইল এলাকায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে বইছে তিস্তার জল।  তিস্তা ব্রিজের কাছে কালিম্পং-দার্জিলিং সংযোগকারী রাস্তা পুরোপুরি জলের তলায়। সোমবার রাত থেকেই  ওই সমস্ত রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিকল্প রাস্তায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

  

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, মঙ্গলবার,  উত্তরবঙ্গের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি/বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের মালদা, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলার এক বা দুটি জায়গায় বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া (৩০-৪০ কিমি/ঘন্টা গতিতে)বইতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।  বুধবারও উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি/ চলবে। বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের মালদা, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলার এক বা দুটি স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত (০৭-১১ সেমি) হতে পারে।   

এখনই দুর্যোগ কমার আশা নেই উত্তরবঙ্গে। বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টি বাড়তে পারে। তার জেরে বাড়বে ধসের আশঙ্কা। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যখন এই পরিস্থিতি, তখন নিম্নচাপের প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ফের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বলা হয়েছে, উত্তর বাংলাদেশের ওপর রয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা পুরুলিয়ার ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। তার প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়াতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বুধবার থেকে বৃষ্টি বাড়বে। বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমার সম্ভাবনা ।