উমেশ তামাং, দার্জিলিং : প্রবল বর্ষণে পাহাড়ে  ফে ভয়াবহ পরিস্থিতি। সিকিমে বিরাট ধসে কার্যত মাটিতে মিশে গিয়েছে একটার পর একটা বাড়ি। এদিকে  ক্রমাগত ভারী বর্ষণের জেরে বিপদ বেড়েছে দার্জিলিংয়েও। টানা দুর্যোগে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH-10)। সমতল থেকে দার্জিলিং যাওয়া অন্যতম এই  সড়কপথ বন্ধ করে দেওয়া হল।  শনিবার সকালে ৬ ঘণ্টার জন্য যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

Continues below advertisement

প্রশাসনিক এক  বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, শনিবার যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল ৬  টা থেকে দুপুর ১২  টা পর্যন্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে সব রকমের গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বারণ। পাহাড়ি এই পথ ধসের জেরে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া টানা বৃষ্টিতে আলগা হয়ে যায় পাহাড়ের মাটি। তাই যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তাই তড়িঘড়ি এই উদ্যোগ। 

তবে  শনিবারই যাঁরা শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং এবং সিকিমে দিকে যেতে চান, তাঁরা বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে পারেন।  ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে জরুরি যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে।  তার বদলে লাভা, গরুবাসান এবং আলগাড়া হয়ে ঘুরে যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া পরিস্থিতি অনুযায়ী গাড়িগুলোকে মংপু বা জোরবাংলো-তিস্তা বাজার রুট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Continues below advertisement

টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড়ে পাহাড়ে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা  তৈরি হয়েছে। শুক্রবারই দার্জিলিংয়ের তাকদায় ধস নামে । তার জেরে ধসে পড়ে হাসপাতালের দেওয়াল ও ছাদ। চাপা পড়ে হাসপাতালের বেড। গুরুতর আহত হন এক রোগীও। তাই দুর্যোগের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তা মেরামতি করার এই জরুরি উদ্যোগ।  দুপুর ১২টার পর রাস্তার সার্বিক সুরক্ষা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পুনরায় গাড়ি চলাচল করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।  

আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, রবিবার থেকে বৃষ্টি কমবে দক্ষিণবঙ্গে। যদিও দার্জিলিং-সহ পার্বত্য এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতেও। 

এ বিষয় পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, বৃষ্টি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। পুর্বাভাস আছে। তবে পর্যটকের সংখ্যা এখন পাহাড়ে খুব কম। পর্যটন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,  'প্রত্যেক জেলায় একটি করে পর্যটন কেন্দ্রকে উন্নয়ন করা হবে। আগের সরকার কিছুই করে নি। অর্থের কুড়ি শতাংশ খরচ হয়নি। '