প্রকাশ সিনহা, কলকাতা: ED দফতরে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস। গতকাল DCP-র খোঁজ পেতে নিরাপত্তা অধিকর্তাকে চিঠি পাঠিয়েছিল ED। কিন্তু একাধিকবার তলব করা হলেও, একবারও ED দফতরে হাজিরা দেননি DCP শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস।সোনা পাপ্পু মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারি করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তাকারী সংস্থা। অবশেষে ইডির দফতরে এসে পৌঁছলেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস। তার সঙ্গে রয়েছেন দুইজন আইনজীবী।DCP শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসকে এর আগে একাধিকবার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। একদিকে সোনা পাপ্পুর যে মামলা, সেই তোলাবাজির মামলায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদিকে এনআরআই কোটায় যে অ্যাডমিশন মামলা, সেই মামলায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বালি পাচার মামলাতেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন, জামিনঅযোগ্য় ধারায় মামলা দায়ের, রাজ্যের তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে পুলিশ
একদিকে কয়লা পাচার মামলা। অন্যদিকে সোনা পাপ্পু-কাণ্ড। রাজ্যে পালাবদলের পরেই ফের জোড়া মামলায় সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় এজেন্সি ED. কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের পাশাপাশি বারাবনি থানার প্রাক্তন OC মনোরঞ্জন মণ্ডলের খোঁজের জন্য় জোড়া চিঠি পাঠানো হল ED-র তরফে। লুকআউট সার্কুলার জারি করার পর, ED সূত্রে খবর, কলকাতা পুলিশের DCP শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের খোঁজে নিরাপত্তা অধিকর্তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।অন্যদিকে, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ED-র স্ক্যানারে থাকা বারাবনি থানার প্রাক্তন OC মনোরঞ্জন মণ্ডলের সন্ধান চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটকে। এর আগে বালিগঞ্জের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু মামলার সূত্র ধরে গ্রেফতার করা হয়েছিল, আরেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী জয় এস কামদারকে। তদন্তে নেমে উঠে আসে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। আদালতে ED-র তরফে দাবি করা হয়েছিল, নিজের প্রভাব খাটিয়ে জয় এস কামদারকে জমি দখলে সাহায্য করতেন কলকাতা পুলিশের DC শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ বার ED নোটিস পাঠালেও, একবারও হাজিরা দেননি DCP শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস।
পাশাপাশি, কয়লা পাচার মামলায় একাধিকবার ED-তলবে হাজিরা দেননি পুলিশ অফিসার মনোরঞ্জন মণ্ডল। কলকাতায় দায়ের হওয়া কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে ED দাবি করে, পুলিশ-মাফিয়া যোগসাজশেই এ রাজ্যে চলছিল কয়লা পাচারের সিন্ডিকেট। সেখানে কয়লা পাচারে প্রোটেকশন দিয়ে প্রচুর টাকা ঘুষ নিতেন বারাবনি থানার প্রাক্তন OC মনোরঞ্জন মণ্ডল। নিজেদের দাবির পক্ষে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ট্রানজ্য়াকশন আইডি-ও উল্লেখ করেছিল ED.এবার বারাবনি থানার প্রাক্তন OC মনোরঞ্জন মণ্ডলের সন্ধান চেয়ে আসানসোলের পুলিশ কমিশনারকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে ED-সূত্রে খবর।
