কলকাতা : বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূল এখন তাসের ঘর। দলে শুধু ভাঙন ধরেছে তাই নয়, একের পর এক নেতা-কর্মী-সমর্থক ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূলের প্রতি। দল সম্পর্কে আগেও সরব হয়েছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য। ফের একবার মুখ খুললেন তিনি। ক্ষোভ উগরে দিলেন টিকিট পেয়ে তমলুক এবং চুঁচুড়ায় নিজের ভোটে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গেও। 

Continues below advertisement

দেবাংশু বলছেন, 'আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা করি। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একজন সমর্থক। দলে যাঁরা সর্বাধিক ক্ষমতা উপভোগ করেছে, তাঁরাই সবার আগে পালিয়েছে। আমি একবার তমলুকে গেছিলাম লড়তে। দল জানত ওটা কনফার্ম হারা সিট। দলের মনে হয়েছে দেবাংশুকে তমলুক দেওয়া দরকার। অন্যদের কলাগাছ আসন দেওয়া দরকার। হাওড়া জেলা আমার হোম ডিস্ট্রিক্ট। সেখানে উড়িয়ে এনে সবচেয়ে সহজ সিটটা দেওয়া হয়েছে। তাঁরাই সবার আগে বেইমানি করেছে। আর আমায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল সাড়ে ৮ হাজার ভোটে পিছিয়ে থাকা চুঁচুড়াতে। যারা বানের জলে এসেছে, তারা তো বানের জলেই যাবে। ২০২১- এর ২ মে- এর পর ২০২২- এর ১ মে, গত বছর আজকের দিন পর্যন্ত দলটা পবিত্র ছিল। তারপর তো নর্দমার জল ড্রেনের জল এক হয়ে গেল। পঞ্চায়েত নির্বাচনে একটা ২০১৮ হওয়ার পর একটা ২০১৯ হয়েছে। ২০২৩- এর পঞ্চায়েতের আগে পোস্ট করেছিলাম আবার একটা ২০১৮ হলে কিন্তু আবার একটা ২০১৯ অপেক্ষা করছে। আগামী দিনে রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকব কিনা সেটা আগামী দিনে চিন্তাভাবনা করব।' 

Continues below advertisement

সব্যসাচীকে সঙ্গে নিয়ে জোড়া ফ্ল্যাটে ম্যারাথন তল্লাশি, উদ্ধার প্রচুর সোনা কেনার রসিদ, গুরুত্বপূর্ণ, দাবি পুলিশ সূত্রে 

এর আগেও তৃণমূলের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেছেন, 'আমার আজকে সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। কিন্তু দুঃখের বিষয় এটাই যে এই দিনটার জন্য দল দায়ী। দল সঠিক সময়ে শক্ত হাতে সামলাতে পারেনি। দল সুযোগসন্ধানীদের সুযোগ দিয়েছে। দল যোগ্যতা দেখে দায়িত্ব দেওয়ার চেয়ে, অনেক বেশি শুধুমাত্র পাশে ঘুরঘুর করা লোকেদের জায়গা দিয়েছে। সেই সমস্ত জায়গাকে কেন্দ্র করেই, আজকে দেখুন যাঁদের জন্য কিছু মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, তাঁদের প্রত্যেককে উল্টো দিকের দল সম্মান দিয়েছে, জায়গা দিয়েছে, তাঁরা সেই জায়গা পেয়েছেন। তাপস রায় এত বছর তৃণমূল করে যে জায়গা পাননি, আজকে তাপসদা ২ বছর বিজেপি করে তো তার চেয়ে ভাল জায়গা পেয়েছেন। তৃণমূল পুনরায় ক্ষমতায় এলে, তাপসদা যদি দল না ছাড়ত, তাপসদা শিল্প মন্ত্রী হলেন, একটা মন্ত্রীও করত দল? তখন এই সুদীপ ব্যানার্জিই আটকাতেন। সজল ঘোষকে একটা সামান্য কাউন্সিলরের টিকিট পেতে দেয়নি। কে পেতে দেয়নি? এই তো এই মানুষটাই। আজকে শুনছি বিরোধী ব্লকের নেতা হবেন। যদি কোনওদিন তৃণমূল কংগ্রেস আবার ফেরত আসে, তাহলে এই মানুষগুলোই আবার রাজত্ব করবে, এই মানুষগুলোই আবার গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেবে, তাঁদের ক্ষমাও করে দেওয়া হবে, আজকে যে কর্মীরা লড়াই করছেন তাঁদের এদের নামেই জিন্দাবাদ বলে ভোট করাতে হবে।'