হাউস্টন: ২০১৪ সালের পর ফের একবার বিশ্বকাপের মঞ্চে সাত গোল দিল জার্মানি। ফের একবার ৭-১ গোলে ম্যাচ জিতল জার্মানরা। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে এই স্কোরলাইনেই ব্রাজিলকে হারিয়েছিল সেবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। তবে এবার তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিলের মতো কোনও বিশ্বকাপের মঞ্চে সুপ্রতিষ্ঠিত দল নয়, বরং প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা কুরাসাও।

Continues below advertisement

প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে নেমেই এক সময় কুরাসাও পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল, তবে শেষমেশ নিজেদের জাত চেনায় জার্মানি। মোট ছয়জন ফুটবলার জার্মানদের হয়ে এদিন গোল করল। দুরন্তভাবে বিশ্বকাপে অভিযান শুরু করল জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল।   

এদিন শুরুতেই এবারের বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলটি করে জার্মানিকে ম্যাচে এগিয়ে দেন একদা ইংল্যান্ডের হয়ে নিজের বয়সভিত্তিক ফুটবল খেলা, বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ফিলিক্স নামেচা। তাঁকে দুরন্ত অ্যাসিস্ট দেন ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজ। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটো গোলটি আসে। তবে সকলকে চমকে দিয়ে মাত্র দেড় লক্ষ জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও ১৫ মিনিট পরেই ম্যাচে সমতা ফেরায়। লিভানো কনমেনএনসিয়া আকার ও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবথেকে ছোট দেশের হয়ে ঐতিহাসিক গোলটি করেন।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন:- মার্কিন মুলুকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলেও পুরো টাকাই পাচ্ছেন সোমালিয়ার আর্তন?

এই গোলের পরেই য়ুর্গেন লোকাদিয়া পেনাল্টির জোরাল আপিল করে কুরাসাওয়ের আশা আরও বাড়ান। তবে সেই আপিল নাকচ করা হয়। জল পানের বিরতির পর খানিক চাপে পড়া জার্মানরা সম্পূর্ণভাবে ম্যাচের দখল নিয়ে ফেলে। নিকো স্লটারব্যাক নিজের ওভারল্যাপিং রানগুলিতে কুরাসাওকে আভাস দিচ্ছিলেনই। তিনি ব্রাউনের কর্নার কিক থেকে সুন্দর হেডারে পুনরায় জার্মানদের লিড এনে দেন। প্রথমার্ধ শেষের আগে কাই হাভার্ৎজ পেনাল্টি থেকে গোল পাওয়ার পর ম্যাচে কুরাসাও অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের ব্যবধান যেন আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে।

পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামা জামাল মুসিয়ালা দ্বিতীয়ার্ধের দুই মিনিটের মাথাতেই জার্মানদের হয়ে স্কোর ৪-১ করেন। এরপর কুরাসাওয়ের ম্য়াচে ফেরার তো আর তেমন কোনও আশাই ছিল না। তবে জার্মানরা কিন্তু থামেনি। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ক্ষুরধার মেজাজে একের পর এক গোল করতে থাকে। ব্রাউন, স্টুটগার্টের ডেনিজ় উনদাভরা গোল করেন। ম্যাচ শেষের আগে হাভার্ৎজ আরও একটি গোল করে জার্মানদের পক্ষে স্কোরলাইন ৭-১ করে দেন।

এই বিরাট জয় একদিকে যেমন জার্মানদের ১২ বছর আগের সেই ব্রাজিল ম্য়াচের কথা মনে করিয়ে দেয়, তেমনই তারা এই ম্যাচেই ব্রাজিলকে পিছনে ফেলে বিশ্বকাপে সর্বাধিক ২৩৯টি গোল করা দেশ হয়ে যায়।