নয়া দিল্লি: মুখ্যমন্ত্রীর সফর চলাকালীন দিনভর নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল দিল্লিতে। SIR-এ ভুক্তভোগীদের দুটি বঙ্গভবন-সহ বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়েছিল। পুলিশের বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ তুলে বঙ্গভবনে ছুটে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়অমিত শাহের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশের সঙ্গে কার্যত সম্মুখ সমরে নামেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মুখ খুলল দিল্লি পুলিশ। বলা হয়েছে, 'পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লিতে Z+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। প্রোটোকল অনুসারে রাজধানীতে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব দিল্লি পুলিশের উপর বর্তায়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আমাদের আগেই এই বিষয়ে অবহিত করেছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও দিল্লি পুলিশকে মোতায়েন করা হয়েছিল'।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর সম্পর্কে মন্তব্য দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার দেবেশ চন্দ্র শ্রীবাস্তবের। তিনি বলেন, 'আজ কোনও পুলিশ বঙ্গভবনে প্রবেশ করেনি। বাসিন্দাদের চলাচলে কোনও বিধিনিষেধও ছিল না। বঙ্গভবনের কোনও ঘরে তল্লাশি চালানো হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একটি রাজনৈতিক দলের প্রায় ১৫০-২০০ সমর্থক এসে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন ।যার মধ্যে দক্ষিণ দিল্লি, নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লি অঞ্চলের গেস্ট হাউস এবং হোটেলও রয়েছে'। 

প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্ঞানেশ কুমারের বৈঠকের প্রায় ৪-৫ দিন আগেই দিল্লিতে পৌঁছে গেছিলেন এ রাজ্যে SIR পর্বে মৃতদের পরিজনদের একাংশ। প্রায় ১০০টি পরিবারকে রাখা হয় চাণক্যপুরীর নিউ বঙ্গভবন, হেইলি রোডের ওল্ড বঙ্গ ভবন ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একাধিক গেস্ট হাউসে। সোমবার সকাল থেকে সেখানে আচমকা পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। 

এ প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশের তরফে বলা হয়, 'আরও জানা গেছে ভিভিআইপি ও সিনিয়র নেতারা এই গেস্ট হাউস এবং হোটেলগুলিতে যাবেন। সেই অনুযায়ী এই স্থানগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। আমরা বিভিন্ন স্তরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ'। 

অন্যদিকে, গেস্ট হাউস থেকে SIR-ভুক্তভোগীদের নিয়ে আসতে গেলে, পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে ফেসবুকে এই ভিডিও পোস্ট করে তৃণমূল। SIR-এ 'ভুক্তভোগী' পরিবারের সদস্যরা বলেন, 'কোনও কারণ আছে? এরা অপরাধী নয়। আমরা কোনও অপরাধী নয়। কেন এদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে? আমাদের সকালবেলা সব দেওয়া হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও আমাদের আটকে রেখেছে এখানে। কোনওমতেই বেরোতে দিচ্ছে না। আমরা বিশাল ক্রিমিনাল চলে এসেছি। আমাদের অধিকার নেই আমরা স্বাধীনভাবে বেড়াব।' 

এই ঘটনা নিয়ে পাল্টা মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, 'আজ দিল্লিতে যা উনি করেছেন প্রথমার্ধে, আমি ধন্যবাদ জানাই দিল্লি পুলিশকে, ওঁর নাটক বেশিক্ষণ চলেনি। উনি বাড়ি থেকে নাকি রাতে পরা কাপড়টা পরে বেরিয়ে এসেছেন। কিন্তু উনি মাইক আর মাইক্রোফোনটা আনতে ভোলেননি এবং আপনারা জানেন নিউদিল্লি হচ্ছে খুব স্পর্শকাতর এলাকা। সেখানে দিল্লি পুলিশের কড়া নজরদারি থাকে এবং আজ এক্সট্রা কিছু ওখানে ছিল না।' 

দিল্লি পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বঙ্গ ভবনগুলিতে শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, যাতায়াতে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা আগেভাগেই প্রতিরোধ করা যায়।