আবির দত্ত, কলকাতা: লালকেল্লার সামনে বিরাট বিস্ফোরণ। ঝলসে গেল নিরীহ প্রাণ, ছিন্নভিন্ন দেহ। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ভিজল রক্তে। প্রশ্নের মুখে পড়ল দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ইতিমধ্যেই বিস্ফোরণের তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA। তবে এরই মধ্যে কলকাতায় নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ। OC, AC, DC-দের নিয়ে লালবাজারে পুলিশ কমিশনারের ভার্চুয়াল বৈঠক। 

Continues below advertisement

প্রয়োজনে হঠাৎ হঠাৎ নাকা চেকিংয়ের নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের। পুলিশ সূত্রে খবর,  'কেউ যেন বাংলাদেশ, নেপালের পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে। এজন্য গোয়েন্দাদের কড়া নজরদারি করে যেতে হবে। কাশ্মীর-আফগানিস্তান থেকে আসাদের বিষয়ে তথ্য রাখতে হবে। বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী জঙ্গি মডিউল তৈরিতে ব্যবহার করতে পারে কলকাতাকে। এব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে, খবর রাখছে STF'। CP-র সঙ্গে বৈঠকে জানালেন ACP STF ভি সলমন নিশাকুমার, এমনটাই সূত্র মারফত খবর। 

এদিকে, দিল্লিতে বিস্ফোরণের পরই কলকাতায়-সহ রাজ্যজুড়ে নাকা চেকিং শুরু হয়েছে। কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক সিপি-র। শুক্রবার থেকে ইডেন গার্ডেন্সে শুরু হচ্ছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট। এরই মধ্যে টিম ইন্ডিয়ার জন্য লালবাজারের কাছে বাড়তি সুরক্ষা চেয়েছে CAB। কারণ, কলকাতায় রয়েছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দল। এই পরিস্থিতিতে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। 

Continues below advertisement

অন্যদিকে, শীতে কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রচুর মানুষ ঘুরতে আসেন। সেই সময় হোটেল ও লজগুলিতে বাড়তি নজর রাখতে থানাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার কালীঘাটে পুজো দিতে যান গৌতম গম্ভীর। কড়া নিরাপত্তায় মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কলকাতা বিমানবন্দরেও বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। যাত্রী থেকে শুরু করে যারা বিমানবন্দরে আসছেন সবকিছুতেই বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় আরও জোর দেওয়া হল নিরাপত্তায়। রেলস্টেশন থেকে রাজ্য়সড়ক, জোর কদমে চলছে তল্লাশি, নাকা চেকিং। পশ্চিম বর্ধমান থেকে কোচবিহার, বিভিন্ন জেলায় ধরা পড়ল একই ছবি।   

মঙ্গলবার দুর্গাপুর ব্য়ারেজের কাছে বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য় সড়কে নাকা তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এদিন নিউ কোচবিহার স্টেশনে তল্লাশি চালাতে দেখা যায় রেল পুলিশকে। একই ছবি হাওড়া স্টেশনেও। বিশেষত দিল্লিগামী দুরপাল্লার ট্রেনগুলোতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। পাশপাশি, অসম-বাংলা সীমান্তে আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।