পূর্ণেন্দু সিংহ, সমীরণ পাল, কলকাতা: বিধানসভা ভোটে প্রার্থী তালিকা নিয়ে কার্যত মুখে কুলুপ সব দলের। আর এরই মধ্যে বাঁকুড়ায় কর্মসূচিতে প্রকাশ্যেই কার্যত প্রার্থীর নাম বলে দিলেন দিলীপ ঘোষ। একেবারে নীলাদ্রিশেখর দানার নাম করেই চাইলেন ভোট। যা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। অন্যদিতে, কামারহাটির তৃণমূল প্রার্থী নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য শোনা গেছে মদন মিত্রের গলায়। 

Continues below advertisement

বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। প্রার্থীতালিকা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। এরইমধ্যে বাঁকুড়ায় বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, তা কার্যত ঘোষণাই করে দিলেন দিলীপ ঘোষ। বাঁকুড়ার বর্তমান বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানার নাম করে ভোটও চেয়ে ফেললেন। এদিনের একটি কর্মসূচীতে এসে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, 'গতবারও যেমন আপনারা ভোট দিয়ে জিতিয়েছিলেন নীলাদ্রিদাকে, এবার আরও বেশি ভোট দিয়ে, বেশি মার্জিনে জেতান। আরেকবার নীলাদ্রিদাকে আরও বেশি ভোটে জেতাতে হবে। কী জেতাবেন তো?'

এ নিয়ে বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা বলছেন, 'ডিক্লেয়ার হলেই বুঝতে পারা যাবে কে আসছেন। তবে যেই থাকুক না কেন, আমাদের কার্যকর্তারা প্রস্তুত। বুথ রেডি। দেখা হয়ে যাবে একদম ভোটের দিন।' বিজেপির তরফে যখন প্রার্থী তালিকা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি, তখন দিলীপ ঘোষ আগ বাড়িয়ে এই মন্তব্য় করলেন কেন? এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলছেন, 'সিটিং এমএলএ আছেন। ওনার সম্ভাবনাই বেশি। বিশেষ প্রয়োজন না হলে পার্টি পাল্টায় না। ওনাকেই জেতাতে হবে। উনি এখন আমাদের নেতা এখানকার জনপ্রতিনিধি।'

Continues below advertisement

এই বিষয় নিয়ে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাজীব দে বলছেন, 'তাঁর নিজের টিকিটেরই কোনও ঠিক নেই। উনি এসে নাকি বলে গেছেন নীলাদ্রি দানা জিতবে। আমি ওপেন চ্যালেঞ্জ করছি মাননীয় দিলীপ ঘোষকে ও মাননীয় আমাদের বিধানসভার বিধায়ককে, যে আপনি ৫ বছরে একটা তালিকা তৈরি করুন বাঁকুড়া বিধানসভার মানুষের জন্য কী কী কাজ করেছেন।'

দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে চর্চার মধ্য়েই, প্রার্থীপদ নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য শোনা গেছে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের গলায়। কামারহাটির তৃণমূল কংগ্রেস মদন মিত্র বলেছেন, 'কে ক্যান্ডিডেট হবে, কে ক্যান্ডিডেট হবে না জানি না। তৃণমূল কংগ্রেস দাঁড়াবে এবং যদি আপনাদের দয়ায়, আপনাদের আশীর্বাদে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করে, তাহলে এই কামারহাটি, এই আড়িয়াদহ, এই দক্ষিণেশ্বরকে আগামী এক বছর বাদে কিন্তু আর চেনা যাবে না। সারা পশ্চিমবঙ্গে সবথেকে বেশি চাকরি যে বিধানসভায় হয়েছে তার নাম কামারহাটি।'

ভোট ঘোষণার সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রার্থী নিয়ে জল্পনার পারদও চড়ছে।