কলকাতা: গোধূলি লগ্নে সাত পাক। জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন দিলীপ ঘোষ। বৈদিক মতে তাঁর বিয়ে হবে। পাত্রী বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী রিঙ্কু মজুমদার। বিজেপি নেতাকে শুভেচ্ছা জানাতে ইতিমধ্যেই তাঁর বাড়িতে এসে হাজির হয়েছেন বিজেপির একাধিক নেতা। শুভেচ্ছাবার্তা এসেছে বিরোধী দল তৃণমূলের তরফ থেকেও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফুল পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh)-কে। বিয়ে নিয়ে আদৌ কি ভাবছেন দিলীপ ঘোষ? কি চলছে মনের ভিতর? 

এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিলীপ বলেছেন, 'আমার টেনশনের কিছু নেই। একটা দায়িত্ব পালন আর আমাদের পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যেটুকু করার করব। দুপুরবেলা আমি আমার পূর্বপুরুষকে পিণ্ড দিয়েছি, শ্রাদ্ধ করেছি। সন্ধেবেলা পরিণয় হবে। এটাই জীবনে বাকি ছিল। পরিক্রমা পূর্ণ হবে। সেটাই করছি। বাড়িতে মা আর আমি, আর কেউ নেই।'

দিলীপ ঘোষ মানেই রাফ অ্যান্ড টাফ। মনে যা আসে বলে দেন, আগুপিছু ভাবেন না। এরকম একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত। যে দিলীপ ঘোষকে মানুষ দেখে অভ্যস্থ, তিনি কি কিছুটা হলেও বদলে যাবেন? উত্তরে দিলীপ বলছেন, 'বদলানোর কোনও কারণ নেই। এটা জীবনের একটা অধ্যায়। আমার এতদিন বিয়ে করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। ব্যক্তিগত জীবনেও না। আমি স্বাবলম্বী। ২৪ ঘণ্টা আমি পার্টির জন্য কাজ করেছি। পরিবারের জন্য সময় ছিল না। এখন কিছু বাধ্যবাধকতা এসেছে। মায়ের কাছে আমি সারাজীবন থাকিনি। এখন উনিই আমার কাছে থাকতে এসেছেন। যখন আমার জটিল, কঠিন সময়, তখন এসেছেন। তখন থেকেই আছেন। এখন যদি আমি কাজ করতে চাই, এনাকে একটু ওঁর দিকে কে দেখবে? সেই জন্যই... যিনি দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি সব জেনেশুনে নিয়েছেন। তিনি আমার কাছে বলেছিলেন, আমি তখন রাজি হয়েছি মাত্র।'

দিলীপ জানিয়েছেন, রিঙ্কুই প্রথম তাঁর কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন। সেই সময়ে দিলীপ ঘোষের কাছে রিঙ্কু ছিলেন আর পাঁচটা নেতা নেত্রী, কর্মীদের মতোই। সেই সময়ে বিয়ের প্রস্তাব শুনে নাকচ করে দিয়েছিলেন দিলীপ। বলেছিলেন, এইসব তাঁর চরিত্রে নেই। তবে পরবর্তীতে তিনি মায়ের কথা ভাবেন। মাকে দেখাশোনার জন্য ও লোক দরকার। দিলীপ আরও জানিয়েছেন, সবটা জেনেশুনেই রাজি হয়েছেন রিঙ্কু। আর মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন দিলীপ।