কলকাতা: মাস পেরোলেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। এবার এ নিয়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে। হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম আসনে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বা মমতাপন্থী শিবিরের তরফে কে প্রার্থী হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা। নন্দীগ্রামে মমতা দাঁড়ালে, আমরা প্রার্থী দেব না, ঘোষণা 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর। মমতাকে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে দাঁড়ানোর বার্তা আখরুজ্জমানেরও। 

Continues below advertisement

আখরুজ্জমান বলেন, ''প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন রয়ে গেছে, নন্দীগ্রাম থেকে তিনি জিততে পারেননি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যদি নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন, তাঁর স্বপ্নপূরণের জন্য আমরা সরে দাঁড়াব। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর না জেতার যে যন্ত্রণা, তার জন্য ওখানে প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করে নেব। এরপর এ বিষয়ে এবার পালটা খোঁচা দিলীপ ঘোষের। রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, প্রতীক কার, ফান্ড কার, এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতেই তৃণমূলের কাছে নির্বাচনের যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।                             

নন্দীগ্রামের ভোটে অর্থাৎ উপনির্বাচনে প্রার্থী হবেন কী না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা নিয়ে ঋতব্রত তৃণমূলের এক বিধায়ক যেমন বার্তা দিয়েছেন, আরেক বিধায়ক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে এদিন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে নন্দীগ্রামে আগে হেরেছেন, ভবানীপুরেও হেরেছেন, আবার কি উনি নন্দীগ্রামে হারতে নামবেন? হাওয়া দিচ্ছেন ওঁকে। আর হারার বাকি নেই। এখন উনি কী করবেন ওঁর ব্যাপার। লোকে উল্টো বুদ্ধি দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ফল টের পেয়েছেন।'              

Continues below advertisement

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে তৎকালীন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাস্ত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও তিনি আশানুরূপ ফল পাননি। এবার উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামে কি লড়াই করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই জল্পনা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল। 

এদিকে, ভোটের লড়াইয়ের চেয়েও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে - তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীকে ঠিক কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে? ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নাকি ‘ঋতব্রত শিবির’? এই জট কাটাতে ও দলীয় প্রতীকের দাবিতে বুধবারই জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গেছিল ঋতব্রত শিবির। 

দিলীপ ঘোষ বলেন, 'তৃণমূলের পাগড়ি বাঁধতে বাঁধতে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। প্রতীক কার, পার্টি কার, ফান্ড কার, এ নিয়ে সমাধান হতে হতেই নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে। লোকসভা নির্বাচন, পঞ্চায়েত নির্বাচনও পার হয়ে যাবে। লড়ুক ওরা।'