কলকাতা: রাজ্য বিজেপিতে ফের কি সক্রিয় হচ্ছেন দিলীপ ঘােষ? সম্ভাবনা তেমনই। আগামী বছর নির্বাচন। তার আগে বুধবার অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার সকালে বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ। এরপরই এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হলেন রাজ্য বিজেপির এই দাপুটে নেতা। গত বছর দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের সময়ে সস্ত্রীক সেখানে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে গিয়ে মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করেন। অনেকেই যদিও এই নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। তবে এই প্রথমবার সেই ইস্যুতে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ।
এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক্সক্লিউসিভ সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ বলেন, ''দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়ার পর আমাকে নিয়ে ইস্যু করা হয়েছিল। কার মন্দির? ভগবান জগন্নাথ দেবের মন্দির, কেন যাব না? 'প্রয়োজন-অপ্রয়োজন অনেক কিছু থাকে। আমাকে বর্ধমানে লড়তে পাঠান হল এটা প্রয়োজন ছিল? রঙ দেখে, মুখ দেখে আমি রাজনীতি করি না। কিছু লোক ভয়ে থাকে সবসময় রাজনীতিতে হারিয়ে যাবে। দিলীপ ঘোষ এসবে ভয় পায় না'', মন্তব্য বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির।
এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও দিলীপ ঘোষের মধ্যে যে বৈঠক হয়, সেখানে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ চক্রবর্তী। সাংগাঠনিকভাবে কীভাবে কাজে লাগানো যায় দিলীপ ঘোষকে, সেই বিষয়ে আলোচনা চলে। পথ সভা ও মিছিলে দিলীপ ঘোষকে আরও বেশি ব্যবহার করা হবে এবং রাজ্য জুড়ে ব্যবহার করা হচ্ছে দিলীপ ঘোষকে, বলে জানা গিয়েছে। ১৩ জানুয়ারি দুর্গাপুরে একটি সভাতে, শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দিলীপ ঘোষ থাকবেন, এই নিয়ে আলোচনা চলেছে, এমনটাই বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্য বিজেপিতে দিলীপ ঘোষের কার্যত প্রত্যাবর্তন হয়েছে । সূত্রের খবর, আর এবার, পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর বিধানসভায় নির্বাচনে লড়তে চেয়েছেন তিনি। সে কথা জানিয়েছেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর কাছেও। সূত্রের দাবি, বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর সঙ্গে কথা বলেই চূড়ান্ত হবে বিজেপির 'দাবাং' নেতার ভূমিকা। তবে দিলীপ ঘোষ যে থাকছেন সক্রিয়ভাবে, তা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছে পদ্ম শিবির।
আপনি বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করতে চান এবার ? পছন্দের কেন্দ্র কোনটা ? এদিন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, তা আমি যখন নির্বাচন একাধিকবার লড়েছি, তো আমাকে জনপ্রতিনিধি হয়েই লড়তে হবে। যদি নির্বাচন না লড়তাম মোটেও, তাহলে আমার প্রশ্ন ছিল না। তখন আমাকে বলা হয়েছিল লড়তে, যতবার আমাকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল, আমি লড়েছি। রাজনীতিতে লড়ার আমার ইচ্ছেও ছিল না।''