মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় 'Operation Sindoor' নিয়ে। সেই তরজায় এখনও জড়াতে দেখা যায়নি তাঁকে। বরং রাজনৈতিক উত্তাপ যখন চরমে, দিলীপ ঘোষকে দেখা গেল জগন্নাথ মন্দিরে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে নয়, বুধবার দুর্গাপুরের জগন্নাথ মন্দিরে স্নানযাত্রায় অংশ নিলেন তিনি। সেই  সঙ্গে মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আমন্ত্রণে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া এবং সেই বিতর্ক নিয়ে। নিজের মতামত জানালেন রিঙ্কুও। (Dilip Ghosh)

বুধবার দুর্গাপুরের জগন্নাথ মন্দিরে হাজির হন সস্ত্রীক দিলীপ।  সেখানে স্নানযাত্রায় অংশ নেন তাঁরা। একসঙ্গে জগন্নাথদেবকে স্নানও করান তাঁরা। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি, সংবাদমাধ্যমেরও মুখোমুখি হন দিলীপ। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উঠলে দিলীপ বলেন, "বিতর্কে যাওয়ার দরকার নেই ভক্তদের। ভগবান যেখানে আছেন, সেটাই ধাম। আমরা সেখানে ভক্তি দেখাই, দর্শন করি। ভক্তি থেকেই ভগবানের কাছে যাই।" (Rinku Majumdar)

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে 'জগন্নাথ ধাম' বলা নিয়ে যেমন বিতর্ক হয়, তেমনই সেখানে দিলীপের উপস্থিতি, মমতার সঙ্গে তাঁর আলাপচারিতা ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় বিজেপি-র অন্দরেও। যদিও দিলীপের বক্তব্য, "যাঁরা বিদ্বান, সন্ত, যাঁরা পুরাণ জানেন, তাঁরা ঠিক করবেন কোথায় ধাম। ভগবান যেখানে আছেন, ভক্তরা সেখানেই যান। ভগবানের দর্শন পেলে মনে আনন্দ হয়। এটা দলের কোও বিষয় নয়। এটা ধর্মীয় বিষয়।"

দুর্গাপুরের জগন্নাথ মন্দিরে এদিন দিলীপের পাশে ছিলেন স্ত্রী রিঙ্কুও। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়ার মধ্যে কোনও বিতর্ক দেখছেন না তিনিও। তাঁর কথায়, "যে কোনও ধর্মীয় স্থানই ভাললাগার বিষয়। দিঘাতেও ভালই লেগেছিল। সবসময় রাজনীতি মাথায় থাকে না। কোনো আফশোস নেই। কারণ আমার স্বামী এমন কোনও ভুল করতে পারেন না। উনি ঠিক মনে করেছিলেন বলেই গিয়েছিলেন। পরে প্রমাণও হয়েছে যে, ওঁর সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল। এটা রাজনীতির অংশ। কূটনৈতিক গত ভাবে বিরোধিতা করা হয়।"

দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরে মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়েও এদিন মুখ খোলেন রিঙ্কু। জানান, আদর্শগত ভাবে মমতার বিরোধিতা করেন তিনি। কিন্তু দিঘার মন্দিরে আন্তরিক আতিথেয়তাই পান মমতার কাছ থেকে। মমতা হয়ত দিলীপের মূল্যবোধ, নীতিবোধকে সম্মান করেন, তাই এত আন্তরিক ব্যবহার করেন বলেও জানান রিঙ্কু। সদ্য সন্তান হারিয়েছেন রিঙ্কু। বেশ কিছু দিন নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালেই রেখেছিলেন তিনি। সম্প্রতি বের বেরোতে শুরু করেছেন। রিঙ্কু জানিয়েছেন, আজ মন্দিরেও দিলীপই তাঁকে নিয়ে যান। তাঁর বক্তব্য, "আমি আবদার করি না। উনিই নিয়ে আসেন। উনি যেখানে বলেন, আমি যাই। আজও খুব ভাল লাগল।"