জলপাইগুড়ি:  কথায় বলে যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়, এরকম-ই একটি কাহিনি রয়েছে জলপাইগুড়ি জেলায় গভীর জঙ্গলে  ঘেরা বোদাগঞ্জ মেচপাড়া শালবনের মাঝে তিনি অধিষ্ঠিত অদরা ভ্রামরী দেবী শালেশ্বরী বনদুর্গা মন্দির। 

Continues below advertisement

গভীর জঙ্গলে ঘেড়া এই মায়ের মন্দিরের আশেপাশে এখনও বাঘ ও হাতির অবাদ যাতায়াত। কিন্ত গ্রামবাসী দের দাবি এই ব্যাঘ্রবাহিনী বন দুর্গাই আমাদের রক্ষা করেন বাঘের হাত থেকে, আজ অবদি কোনো মানুষ কেই আক্রমনে শ্বিকার হতে হয়নি এই জঙ্গলের বাঘের দাঁড়া, এই ব্যাঘ্রবাহিনী বন দুর্গাই আমাদের রক্ষা করে রেখেছেন। 

আজ থেকে ২০০ বছর আগে জঙ্গলের মধ্যে একটি শাল গাছকে মানুষ পুজো কড়তেন তাই মায়ের নাম শালেশ্বরী বনদূর্গা বলে পরিচিত। এই মায়ের পুজোয় আরাধনার ভিন্ন নিয়ম আছে, ব্যাঘ্রবাহিনী বন দুর্গার ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বাৎসরিক পুজো হয় পাশাপাশি ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে পুজো হয়ে থাকে কিন্ত মায়ের ভোগ পুরটাই নিরামিষ, ভোগে থাকে শুধু ফল পরে পুজো শেষে খিচুড়ি বিতরন হয়ে থাকে, মন্দির চত্বরে সমান সম্মানে পুজো পান শিব, নারায়ণ, গঙ্গা, যমুনা, বিশ্বকর্মা।

Continues below advertisement

জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় বাঘ ও হাতির উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে বহুদিন থেকে স্থানীয়রা একটি শাল গাছ কেই আরাধনা করতেন বলে কথিত আছে, পাশাপাশি গ্রামবাসীদের দাবি, বৈকন্ঠপুর রাজাদের ইতিহাস বিজড়িত এই মন্দিরে হাতি কেও পুজো করা হয়, ইতিহাসের পাশাপাশি জড়িয়ে রয়েছে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের লোকবিশ্বাস ও আবেগ। 

একটা সময় বৈকন্ঠপুর রাজ এস্টেটের দ্বিতীয় রাজধানী ছিলো, সেই সময় রাজা প্রসন্নদেব রায়কত হাতির পিঠে চড়ে আসতো সংগীদের নিয়ে এই জঙ্গলে শালেশ্বরী গাছের থানে পুজো দিতে, পুজো শেষ করেই জঙ্গলে চলে যেতেন বাঘ শিকার করতে, সেই শালেশ্বরী থানকেই পরে বনদুর্গার আরাধনা শুরু হয়। 

বৈকুন্ঠপুর রাজাদের পুজো দেওয়া থেকে শিকারে জাওয়ার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন এই গ্রামের-ই এক বৃদ্ধ খনি রায় বয়স ৭০,  তিনি আরো জানান বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ীর রাজা এবং তার সঙ্গীরা শিকারে যাওয়ার আগে মাকে বলতো মা আজকে আমি বাঘ মারব রাত্রে। তারপর শিকার সেরে গ্রামবাসীদের বাড়িতে  খাওয়া দাওয়া করে রাজবাড়ী চলে জেতেন, ১৫ দিনপর আবার আসতো হাতি চড়ে, এসে মাকে বলতো আজ হরিণ শিকার করব। বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ীর রাজাদের আমি দেখেছি আমি ছোটো ছিলাম স্কুলে পড়তাম রাজাকে প্রণাম ও করতাম, এখানে প্রচুর বাঘ ছিল। এখনও আছে রাস্তায় বসে থাকে দুই পাশেই তো গভীর জঙ্গল, এই মা-ই আমাদের রক্ষা করে আসছেন এত বছর ধরে কাউকে বাঘ ক্ষতি করেনা, খুব জাগ্রত মা রাতে যারা এই জঙ্গল দিয়ে যাতায়াত করে যখন আমরা বাড়ি ফিড়ি পেছনে পেছনে এই মা থাকেন, এই মায়ের জন্যই গ্রামটা বেঁচে আছে।' 

অতীতে পাকা মন্দিরের জায়গায় টিনের চালার মন্দির ছিল, বর্তমানে মন্দিরের ভেতর পৃথক একটি ২১ ইঞ্চি পাথরের বিগ্রহ রয়েছে, সিংহের ওপর তিনি বিরাজমান।