কলকাতা : দুর্গাপুজোয় বামেদের দেওয়া বইয়ের স্টল নিয়ে এবার চরম হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের আইনমন্ত্রী বিরাজ বসু। আইনমন্ত্রী বলেছেন, 'স্টলের মধ্যে যদি ভারত বিরোধী, হিন্দু ধর্ম বিরোধী, সনাতন বিরোধী কিছু থাকে, তাহলে সেটাকে ভাঙব।' 

Continues below advertisement

'পুজো করতে হবে পঞ্জিকামতে, পিতৃপক্ষে কাঁচি নিয়ে ঘুরলে হবে না', দুর্গাপুজো নিয়ে ফের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর 

আইনমন্ত্রী বিরাজ বসুর কথায়, 'বিবেকানন্দকে রাখুক স্টলে, নেতাজিকে রাখুক, শ্যামাপ্রসাদকে রাখুক, আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের রাখুক... তাহলে অবশ্যই সেই স্টল চলবে। স্টলের মধ্যে যদি ভারত বিরোধী, হিন্দু ধর্ম বিরোধী, সনাতন বিরোধী কিছু থাকে, তাহলে সেটাকে ভাঙব। কোনও জাতীয়তাবাদী জিনিস বিক্রি হয়? স্বামী বিবেকানন্দ বিক্রি হয়? নেতাজির ব্যাপারে কিছু থাকে? কিচ্ছু থাকে না ওগুলো। দেশদ্রোহী, হিন্দু ধর্ম বিরোধী সব জিনিসপত্র তারা সেখানে বিক্রি করছে। কেন ভাঙব না? আমাদের দেবীর পুজোকে ব্যবহার করে, অর্থ কামিয়ে, সেই টাকা দিয়ে তারা নকশালবাদী পালবে... তাহলে কেন ছাড়ব সেই সব স্টলগুলোকে? তারা বিবেকানন্দকে রাখুক, আমরা সেই স্টলগুলোয় যাব বই কিনতে। স্বামী বিবেকানন্দকে রাখুক, নেতাজিকে রাখুক, মহাত্মা গান্ধীকে রাখুক, আমরা নেব সেখান থেকে, বই কিনব।' 

Continues below advertisement

'পুজো বলতে কষ্ট বামপন্থীদের, বলছে কেন পুজো লিখতে হবে...', মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বামপন্থীরা 

দুর্গাপুজো না লিখলে বামেদের বইয়ের স্টলের অনুমতি মিলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সামনেই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তারপর কলকাতা, হাওড়া-সহ একগুচ্ছ পুরসভার ভোট। দুই ভোটের মাঝে রয়েছে দুর্গাপুজো। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। কিন্তু সেই উৎসব নিয়েও এখন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। পুজোর সময় বামপন্থীদের বইয়ের স্টল দেওয়ার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। বৃহস্পতিবার তা নিয়ে হুঁশিয়ারির সুর শোনা যায় শুভেনদু অধিকারীর গলায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, 'আমি সব দুর্গাপুজো কমিটিকে বলব এই তথাকথিত কমিউনিস্টরা পুজোর স্টল করতে গেলে শারদোৎসবের জায়গায় যদি দুর্গাপুজো না লেখে একটা স্টলও করতে দেবেন না।' 

অন্যদিকে, চেতলায় গণেশ পুজো উদ্বোধনে গিয়ে দুর্গাপুজো নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, 'আমাকে চেতলা অগ্রণী থেকেও ডেকেছে। আমি সেখানেও যাব। কারণ আমার কাছে কোনও ভেদাভেদ নেই। কিন্তু পুজো করতে হবে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে। পুজো করতে হবে পঞ্জিকামতে। পিতৃপক্ষে কাঁচি নিয়ে ঘুরলে হবে না। পুজো হবে পুজোর মতো। শারদোৎসব করুন, আনন্দ করুন, গানবাজনা করুন, কিন্তু পুজো করতে হবে পঞ্জিকাতে যেমন যেমন লেখা আছে... মায়ের বোধন, কলাবউ স্নান, অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলী, নবমীর আরতি এবং দশমীর নিরঞ্জন, দধিকর্মা, সিঁদুরখেলা... সেভাবেই করতে হবে। আমাদের যে স্বাত্তিকতা, যে পরম্পরা, এটাকে কোনওভাবে ভুলিয়ে দেওয়া চলবে না।'