মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর : দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার আরও একজন। রবিবারই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সোমবার সকালে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেট। এই নিয়ে দুর্গাপুরকাণ্ডে গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে হল মোট ৫ জন। আজ সোমবার সকালে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় শেখ নাসিরউদ্দিনকে। এই ব্যক্তিকে গতকাল আটক করা হয়েছিল। তারপর চলে জিজ্ঞাসাবাদ। আজ সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের আইকিউ সিটি মেডিক্যাল কলেজের পাশে বিজড়া গ্রামের তিনপাড়ায় এই ব্যক্তির বাড়ি। 

Continues below advertisement

সোমবার সকালে আরেকজন যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার নাম সফিকুল শেখ। দুর্গাপুরের গোপাল মাঠ অঞ্চল থেকে গ্রেফতার হয়েছে এই অভিযুক্ত। এক আত্মীয়ের বাড়িতে গা-ঢাকা দিয়েছিল সে। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজই এই ২ ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে এবং তাদের হেফাজতের চেয়ে আবেদন করবে পুলিশ। রবিবার যে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাদের আগেই ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত হয়েছে। এবার নতুন করে গ্রেফতার হওয়া ২ জনকেও হেফাজতে নিতে চায় পুলিশ। ৫ ধৃতকে একসঙ্গে বসিয়ে জেরা করতে পারে পুলিশ। আজ গ্রেফতার হওয়া ৫ জনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতে পারে পুলিশ এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হতে পারে বলে শোনা গিয়েছে। 

দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পঞ্চম যে অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছে সে পলাতক ছিল। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। অবশেষে ধরা পড়েছে সফিকুল শেখ নামের এই ব্যক্তি। পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্গাপুরকাণ্ডে রবিবার যে ৩ জন গ্রেফতার হয়েছিল, তারা সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা। গ্রেফতার হওয়া চতুর্থ ব্যক্তিও ওই এলাকারই বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। দুর্গাপুর 'গণধর্ষণ' কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া চতুর্থ ব্যক্তি শেখ নাসিরউদ্দিন আইকিউ সিটি মেডিক্যাল কলেজ সংলগ্ন বিজড়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। গতকাল যে ৩ জন গ্রেফতার হয়, তারাও বিজড়া গ্রামের ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা। 

Continues below advertisement

গণধর্ষণকাণ্ডে পুলিশের স্ক্যানারে নির্যাতিতার সহপাঠীর ভূমিকাও। কেন ক্যাম্পাস চত্বরে দোকান থাকতেও তরুণীকে নিয়ে বাইরে বেরিয়েছিলেন তিনি, তা নিয়েই প্রশ্ন আগেই উঠেছে। ওই সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদও করছে পুলিশ। তবে এখনও তাঁকে আটক কিংবা গ্রেফতার এসব কিছু করা হয়নি। এই ঘটনায় তরুণীর ওই সহপাঠী জড়িত থাকতে পারেন বলে আগেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা।