মনোজ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, পশ্চিম বর্ধমান : দুর্গাপুরে তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। মৃত দুর্গাপুরের তৃণমূলের প্রাক্তন সহ সভাপতি নিখিল নায়েক। পরিবারের অভিযোগ, খুন করা হয়েছে তাঁকে। পাশপাশি, দলের নেতার মৃত্য়ুতে খুনের অভিযোগ তুলেছেন পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়কও।
যে ভাইরাল ছবি প্রকাশ্যে এসেছে তা দেখে মনে হবে খালি গায়ে পিছন ফিরে পা মুড়ে বসে রয়েছেন তিনি। ভাল করে দেখলে বোধা যাবে, গলায় বাঁধা রয়েছে নাইলনের দড়ি। সেই দড়ি বাঁধা রয়েছে বেশ কিছুটা ওপরে সিঁড়ির রেলিং-এ। শনিবার দুর্গাপুরের কমলপুরে এভাবেই উদ্ধার হল তৃণমূল নেতার দেহ। পরিবারের অভিযোগ, খুন করা হয়েছে তাঁকে। মৃতের ভাইপো অনুপম নায়েকও খুনের অভিযোগই জানিয়েছেন। পরিবারের লোক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের তরফেও বারবার খুনের অভিযোগই তোলা হয়েছে। সকলেই প্রশ্ন তুলছেন খেতে বসে তো কেউ আত্মহত্যা করবে না? আর বসে থাকা অবস্থায় কীভাবেই বা গলায় থাকবে দড়ি? তবে কে বা কারা এই ঘটনার পিছনে জড়িত তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়ছে দেহ। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে অনুমান পুলিশের।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম নিখিল নায়েক। বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। এর আগে তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি পদে ছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, তাঁদের বসত বাড়ির কাছে আরও একটি বাড়ি রয়েছে। প্রতিদিনের মতো এদিন সকালেও সেই বাড়িতে যান তিনি। দুপুরে খেতেন এই বাড়িতেই। সেখানকার বাগানের কর্মীর দাবি, দুপুরে খেতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে সুস্থই দেখেছেন। ফিরে এসে বাড়িতে ঢুকেই দেখেন, এভাবে পড়ে রয়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে দবি, দেহ উদ্ধারের সময়ে হাতে ভাত লেগেছিল মৃত তৃণমূল নেতার। পাশে ঢাকা দিয়ে রাখা ছিল খাবার। শনিবার ঘটনাস্থলে আসেন রাজ্য়ের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। এদিকে দলের নেতার মৃত্য়ুর ঘটনার খুনের অভিযোগ তুলেছেন পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
পুলিশ সূত্রে দাবি, ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে মৃত্য়ুর আসল কারণ। কিন্তু ভাত খেতে খেতে কীভাবে মৃত্যু হল ওই বৃদ্ধের? আত্মহত্য়া না কি খুন? আত্মহত্যা হলে, মাটিতে বসে থাকা অবস্থায় কীভাবে গলায় দড়ি দিলেন? খুন হলে কেন খুন? খুনিই বা কে? উত্তর এখনও অজানা। জোরকদমে তদন্ত করছে পুলিশ।