দুর্গাপুর: আজ সকাল থেকে মাইথন ও পাঞ্চেত মিলিয়ে মোট জল ছাড়া হয়েছে ১ লক্ষ ১৮ হাজার কিউসেক। এই জল দুর্গাপুর ব্য়ারেজে (Durgapur Barrage) এসে পোঁছছে। ডিভিসি সূত্র যা জানা যাচ্ছে তাতে মাইথন থেকে ৫৮ হাজার ও পাঞ্চেত থেকে ৬০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়। সেই জল দুর্গাপুরে পৌঁছয়।

Continues below advertisement

এর সাথে আপার ক্যাচমেন্টের অর্থাৎ পশ্চিম বর্ধমান, ঝাড়খণ্ড, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার বৃষ্টিপাতের জল যোগ হওয়ায় দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে আরও বেশি পরিমাণে জল ছাড়া হয়। সেচ দফতর সূত্রে জানানো হচ্ছে সকাল আটটার পর থেকে এই ব্যারেজ খেকে থেকে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫২৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। দুর্গাপুর ব্যারেজের মোট ৩৪টি গেটের অধিকাংশ গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। 

পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়ার মতো যে দামোদর তীরবর্তী জেলাগুলি থেকে এই ছাড়া জল যায়, সেই জেলাগুলিকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। পাঞ্চেত এবং মাইথন থেকে বৃষ্টির জেরে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়লে, দুর্গাপুর থেকেও আরও বেশি পরিমাণে জল ছাড়া হবে সেচ দফতর সূত্রে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Continues below advertisement

 

প্রবল পরিমাণে বৃষ্টিতে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জেলা জলে ডুবেছে। আজ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে একাধিক জেলায়। রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টি কম থাকবে দক্ষিণবঙ্গে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে দাবি, এরপর ফের বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। অন্য়দিকে, সপ্তাহজুড়ে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

কোপাই নদীর জল বাড়তেই ডুবে গেল কঙ্কালিতলা মন্দির চত্বর। মা কঙ্কালির গর্ভগৃহে জল না ঢুকলেও মন্দির চত্বরে রয়েছে কোমর সমান জল। তাই পুজো হচ্ছে পাশের শিব মন্দিরে। এদিকে বুধবার থেকে বোলপুর পুরসভার ৩, ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ড এখনও জলমগ্ন। একাধিক জায়গায় নতুন করে আবার জল ঢুকেছে। ফলে জলযন্ত্রণায় জীবন জেরবার সেখানকার মানুষের।

আরও পড়ুন:- 'শিঁকেয় স্বাস্থ্যবিধি', একাধিক রেস্তোরাঁ, হোটেলকে শোকজ 

অপরদিকে, মালদার মানিকচকের ভূতনিতে গঙ্গা ও কোশি নদীর সংযোগস্থলে বাঁধের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জল ঢুকতে শুরু করেছে এলাকায়। ফলে চিন্তায় স্থানীয় মানুষ। এরপর কী হবে, তা ভেবেই ঘুম উড়েছে তাঁদের। এই প্রবল বৃষ্টিতে তিলডাঙা ও নিউ ফারাক্কার মাঝে রেল লাইনে নামল ধস। ধসের জেরে ব্য়াহত হয়েছে ট্রেন চলাচল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চালাচ্ছেন রেল কর্মীরা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, অতিবৃষ্টির জেরেই লাইনে সমস্যা হয়েছে। 

নাগাড়ে বৃষ্টিতে জলস্তর বেড়েছে বাঁকুড়া জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী, গন্ধেশ্বরী, কংসাবতী-সহ সব নদীতেই। আর এইসব নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় জলের তলায় চলে গিয়েছে দ্বারকেশ্বর নদের ভাদুল সেতু। এখন সেতুর উপর ৭ থেকে ৮ ফুট উচ্চতায় দিয়ে বয়ে যাচ্ছে জল। এর ফলে নদের অন্য পাড়ে থাকা সানতোড়, বালিয়াড়া-সহ প্রায় ২০ টি গ্রামের বাসিন্দাদের বাঁকুড়া শহরে যাতায়াত করতে এখন পাড়ি দিতে হচ্ছে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ। ঘুরপথে গন্তব্যে যেতে লাগছে বেশি সময়ও। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য সমস্ত বিষয়েই উল্লিখিত গ্রামগুলির মানুষ বাঁকুড়া শহরের উপর নির্ভরশীল। টানা বৃষ্টিতে দ্বারকেশ্বর নদের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং তার জেরে ভাদুল সেতু জলের তলায় চলে যাওয়ায়, বর্তমানে ঘুরপথে বাঁকুড়া শহরে পৌঁছতে রীতিমত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।