গৌতম মণ্ডল, বকখালি: পর্যটকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাবারের মান যাচাই করতে বকখালির বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অস্থায়ী খাবারের দোকানে যৌথ অভিযান চালাল প্রশাসন। অভিযানে সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া-সহ বিভিন্ন খাবারের গুণগত মান, রান্নার মশলা, সংরক্ষিত কাঁচা মাছ-মাংস ও শাকসবজি পরীক্ষা করা হয়। অভিযানে কয়েকটি দোকান থেকে বাসি খাবার, পচন ধরা মাছ, ক্ষতিকর রং মেশানো সবজি এবং ভেজাল মশলা-সহ ব্যবহারের অনুপযুক্ত খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার হয়। পরে সেগুলি ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেওয়া হয়।

Continues below advertisement

রাজ্যের পর্যটনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বকখালি। সেখানে যেমন প্রচুর রেস্তোরাঁ রয়েছে, তেমনই বকখালির সৈকতে বিভিন্ন ছোট ছোট দোকানে সঙ্গে সঙ্গে সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি রান্না করে দেওয়া হয়। ক্রেতারা অনেকেই এখান থেকে তাজা মাছ, কাঁকড়া এসব কিনে, রান্না করিয়ে খান। 

কিন্তু গতকাল টাস্ক ফোর্সের অভিযানে সমুদ্র সৈকতের এইসব দোকানগুলি থেকে প্রচুর পচা মাছ পাওয়া যায়। যে কড়াইতে এগুলি ভাজা হয় তা অত্যন্ত নোংরা, যে তেলে ভাজা হয়, যেখানে কাটা হয়, তা অত্যন্ত অপরিষ্কার বলেই ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের নজের আসে। এই অভিযানে পুলিশ তো ছিলই, মহকুমা ও ব্লক প্রশাসন আধিকারিকদের তরফে এই অভিযানে অনেক পচা মাছ নষ্ট করা হয়। যেসব মশলাপাতি এগুলি রান্নায় ব্যবহার করা হয়, তাতে রং পাওয়া গিয়েছে। এই পচা খাবারের বিষয়টি সৈকতের ছোট ছোট দোকানে শুধু সীমাবদ্ধ নয়, বড় বড় হোটেল লাগোয়া যে রেস্তোরাঁ রয়েছে, সেখানেও ছবিটা কিন্তু একই।

Continues below advertisement

স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং পর্যটকদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দোকান ও রেস্তোরাঁগুলিকে শোকজ করা হয়েছে। অভিযানে খাদ্য দফতর, এগ্রিকালচার মার্কেটিং বিভাগ, কাকদ্বীপ মহকুমা ও নামখানা ব্লক প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ছিলেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনেও এমন অভিযান চলবে।

বনগাঁর কমলাপুরে সস কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতর ও জেলা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্র্যাঞ্চও হানা দেয়। সেখানে সসে ক্ষতিকারক রঙ ও পচা কুমড়ো মেশানোর অভিযোগ। নকল সস বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাগদা পুরাতন বাজার ও নতুন বাজারেও অভিযান। বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, বিরিয়ানির দোকান, ফাস্টফুডের দোকানে হানা। মিষ্টির দোকান থেকে উদ্ধার করে মেয়াদ উত্তীর্ণ ব্যবহৃত সামগ্রী। কোথাও মিষ্টিতে ব্যবহার হচ্ছে দোলের রং, কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খাওয়ানো হচ্ছে, কোথাও আবার প্যাকেটে কোনও ডেটই নেই। সব মিলিয়ে ভেজাল খাবারে রাজ্য জুড়ে তোলপাড়।