কমল কৃষ্ণ দে, পূর্ব বর্ধমান: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্য নিয়ে উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে দেশ। পড়ুয়াদের হাতে হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ট্যাব। স্কুলে স্কুলে ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিট্যাল প্রযুক্তি। কিন্তু সেই এআই য়ের সাহায্য নিয়ে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষার বৈতরণী পার করতে চাইল একাধিক পড়ুয়া। অনৈতিক ভাবে  মোবাইল ব্যবহার করে টুকলি করতে গিয়ে ধরা পড়ল একাধিক পরীক্ষার্থী। জীবনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষায় পড়ুয়াদের এমন ব্যবহার দেখে তাজ্জব শিক্ষকও । একজন নয়, একাধিক এমন ঘটনা ধরা পড়েছে বিভিন্ন স্কুল থেকে। অবশেষে ধরা পরে বাতিল করা হয় পরীক্ষাও ।

Continues below advertisement

এখনও পর্যন্ত ওই জেলায় ৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৩ পরীক্ষার্থী মোবাইল নিয়ে গিয়ে ধরা পড়েছে । বাতিল হয়েছে পরীক্ষা। কারণ, সেই এআই এর সাহায্য নেওয়া।  টুকলিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে স্তম্ভিত শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরাও। গলসির সাঁকো সিএস স্কুলের এক পড়ুয়া মোবাইল সহ ধরা পড়ে। এছাড়া একই রকম অনৈতিক কাজ করে  ধরা পড়েছে কাটোয়া দুর্গাদাসী চৌধুরানি বালিকা বিদ্যালয়, কাটোয়া কেডিআই ইনস্টিটিউটের পরীক্ষার্থীরাও।  প্রত্যেকেই মোবাইল ব্যবহার করে পরীক্ষা দিচ্ছিল। 

প্রশ্নপত্র মোবাইল ফোনে স্ক্যান করে অনৈতিক কাজ ! 

Continues below advertisement

এদের মধ্যে গলসিরর ছাত্রটি প্রশ্নপত্র মোবাইল ফোনে স্ক্যান করে এআই অ্যাপ ব্যবহার করে উত্তর খুঁজে বের করছিল। পরীক্ষকরা তাঁর এই কীর্তিকলাপ ধরে ফেলে। পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পাশাপাশি অন্য দুই ছাত্র পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে ঢুকে মোবাইল ব্যবহার করে উত্তর লেখায়, তাদের পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে।       

কীভাবে মোবাইল নিয়ে হলে? 

মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। সেজন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার সময় প্রতিটি পরীক্ষার্থীর তল্লাশি নেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও নজরদারির ফাঁকফোঁকর খুঁজে নিয়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে।  ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা জেলা কনভেনার অমিত কুমার ঘোষ জানান, মূলত জুতোর ভেতরে, মোজার ভেতরে কিংবা পায়ের সঙ্গে সেলোটেপ আটকে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকেছিল ওই তিন পরীক্ষার্থী। ঢোকার সময় সেই মোবাইল ফোন সুইচড অফ করে রাখা ছিল। এরপর তা সময় মতো অন করে নেওয়া হয় এবং সাইলেন্ট মোডে রাখা হয়। কোনও ফোন এসে গেলে যাতে কেউ বুঝতে না পারে সে কারণেই এই সাইলেন্ট মোড ! এরপর এ আই অ্যাপ ব্যবহার গলসির ছাত্রটি প্রশ্নপত্র স্ক্যান করে  উত্তর তৈরি করে নিয়ে তা লিখছিল। সেই সময় পরীক্ষকরা কারসাজি ধরে ফেলে।  পরীক্ষা বাতিল করা হয়।