কমলকৃষ্ণ দে, পূর্ব বর্ধমান : নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) নিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যেই ভাইরাল হল বর্ধমান উত্তরের (Burdwan North) তৃণমূল বিধায়কের (TMC MLA) প্যাডে লেখা একটি সুপারিশপত্র। অভিযোগ, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) নিজের প্যাডে ১১ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন ওই শাসক নেতা। বিষয়টি জানা নেই বলে দায় ঝাড়ার চেষ্টা করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক। সুপারিশ চিঠিকে হাতিয়ার করে একযোগে সুর চড়িয়েছে বিজেপি (BJP) ও সিপিএম (CPM)। অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে জেলা তৃণমূল (TMC) নেতৃত্ব।
ভাইরাল সুপারিশ
তৃণমূল বিধায়কের নামাঙ্কিত প্যাডে ১১ জনের নাম, রোল নম্বরের তালিকা ! তার মধ্যে প্রথম ৯ জনের নামের পাশে লেখা রয়েছে ট্রেন্ড। শেষ দু'জনের নামের পাশে লেখা আনট্রেন্ড। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সম্বোধন করে লেখা সুপারিশ-চিঠির শেষে স্বাক্ষর বর্ধমান উত্তর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিকের! অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়কে এভাবেই প্রাথমিকে চাকরির সুপারিশ তালিকা পাঠিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড়ের আবহে, নতুন মাত্রা যোগ করেছে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Viral) হয়েছে যে ছবি! যদিও এবিপি আনন্দ এই ছবির সত্য়তা যাচাই করেনি। যাঁর নামাঙ্কিত প্যাডের ছবি ভাইরাল হয়েছে, সেই তৃণমূল বিধায়ক কিছুই জানেন না বলে দাবি করছেন।
জারি রাজনৈতিক তরজা
যে বিষয় সামনে আসার পরই বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিক বলেছেন, 'আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।' যদিও, তৃণমূলকে আক্রমণের এমন অস্ত্র হাতছাড়া করেনি বিরোধীরা। বর্ধমানের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেছেন, 'পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর ফ্ল্যাট থেকে যে কোটি কোটি টাকা বেরিয়েছি, তার উৎস সবাই বুঝতে পারছে।' পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সিপিএম নেতা ও সদস্য অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, 'তৃণমূলের মাথা থেকে পা পর্যন্ত দুর্নীতি।' ভাইরাল হওয়া সুপারিশ পত্র আদৌ তৃণমূল বিধায়কের লেখা কিনা তা নিয়ে, পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে জেলা নেতৃত্ব। তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, 'কী হয়েছে, ব্যাপারটি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। সত্যতা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদৌ এমএলএ সুপারিশ করেছে কিনা, খতিয়ে দেখতে হবে।'
ইতিমধ্য়েই নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে তৃণমূলের একাধিক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। তার মধ্য়ে পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু, এবার ভাইরাল-বিতর্কে, আরও এক তৃণমূল বিধায়কের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় শাসক দলের অস্বস্তি কি ফের বাড়ল?