সৌভিক মজুমদার, কলকাতা: ED-তল্লাশিতে তুলকালাম নিয়ে আজ হাইকোর্টে জোড়া মামলার শুনানি ছিল। তল্লাশিতে বাধার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ED অন্যদিকে পাল্টা ED-র বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অথচ এই IPAC-কাণ্ড নিয়ে হাইকোর্টে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা চলে। যার জেরে স্থগিত হয়ে যায় শুনানি। আর এরপর আজই শুনানি চেয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন ED-র। 

Continues below advertisement

এদিন এই 'হাইভোল্টেজ' দুই মামলায় সবার নজর ছিল। বাইরেও আইনজীবীদের ভিড় ছিল, ভিতরের আইনজীবীরাও বের হতে চাইছিলেন না। ফলে একাধিক মামলার শুনানিও করা যাচ্ছিল না। সেই সময় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ সকলকে অনুরোধ করেন এই মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা বাদে সকলে যেন আদালত কক্ষের বাইরে চলে যান। কিন্তু বিচারপতির নির্দেশের পরও একই অবস্থা থাকে সেখানে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের অনুরোধের পরও অবস্থার পরিবর্তন না হলে বিচারপতি বিরক্ত হয়ে এজলাস ছেড়ে উঠে বেরিয়ে যান।

ED, তৃণমূলের মামলার শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। ১৪ জানুয়ারি ED, তৃণমূলের মামলার ফের শুনানি হবে এমনটাই জানা হয়েছে। কিন্তু এরপরই ইডির দাবি যে এই মামলার শুনানি আজই হতে হবে। সেই মোতাবেক তারা কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে মেইল করে জানান যে, ইডি চাইছে এই মামলার আজই শুনানি হোক। এই মতো বিচারপতি বদল করারও দাবি জানান হয়েছে। 

Continues below advertisement

জানা গিয়েছে, এদিন এজলাসে আইনজীবী ছাড়াও প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। হই-হট্টগোলও শুরু হয়ে যায় এজলাসে। এই মামলা ছাড়াও আরও যে মামলাগুলি ছিল সেগুলিও ঠিক মতো শুনতে পাচ্ছিলেন না বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এজলাসে বেনজির বিশৃঙ্খলা হওয়ায় উঠে যান বিচারপতি। আইনজীবীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ করলেও এজলাসে প্রচুর ভিড় জমতে থাকে, যার জেরে বিরক্ত হন বিচারপতি । 

শুক্রবার দুপুর আড়াইটেয়, মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। দুপুর দেড়টা থেকেই বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ভিড় শুরু হয়। আইনজীবী, সাদা পোশাকের প্রচুর পুলিশ, এমনকী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকেও দেখা যায় এজলাসে। আদালতে এত হই-হট্টগোল হয়, ভিড় এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে নড়াচড়া করার জায়গা ছিল না। এই অবস্থায় বিচারপতি বারবার বলতে থাকেন, তিনি সওয়াল শুনতে পাচ্ছেন না। যাঁদের সঙ্গে এই মামলার যোগ নেই, তাঁরা যেন বাইরে চলে যান। একই অনুরোধ করতে থাকেন, রাজ্য় সরকারের আইনজীবী কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বদলায়নি। এরপরই বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান। স্থগিত হয়ে যায় শুনানি।