কলকাতা : সোনা পাপ্পু মামলায় ফের নড়ে-চড়ে বসল ED। শুক্রবার সকালে কলকাতার ৩ জায়গায় ED হানা দেয়। চক্রবেড়িয়া, রয়েড স্ট্রিট ও কসবা, ৩ জায়গায় চলছে ED তল্লাশি। চক্রবেড়িয়ায় ব্যবসায়ী অতুল কাটারিয়ার বাড়িতে ED আধিকারিকরা। কসবায় কলকাতা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টরের বাড়িতেও ED'র তল্লাশি। রয়েড স্ট্রিটের একটি হোটেলে চলছে ED অভিযান।
১৮ মে গ্রেফতার হয়েছেন জাভেদ খান ঘনিষ্ঠ সোনা পাপ্পু। কিন্তু আজ ফের ময়দানে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় লেনদেন সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য হাতে আসে। একাধিক সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার পাশাপাশি সেই সমস্ত টাকা বহু প্রভাবশালীদের কাছেও পৌঁছে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। গ্রেপ্তারের পরে গত মঙ্গলবার কলকাতার ইডি আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস, সোনা পাপ্পু এবং জয় কামদার মিলে একটা চক্র গড়ে তুলেছিলেন বলে আদালতে দাবি করেছে ইডি।
জিজ্ঞাসাবাদের পর যে তথ্য হাতে আসে ED'র, সেই সূত্র ধরে শুক্রবার কোমোর বেঁধে তল্লাশিতে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। কলকাতার রয়েড স্ট্রিট, চক্রবেড়িয়া এবং বালিগঞ্জ-কসবা এলাকায় হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। সূত্রের খবর, রয়েড স্ট্রিটের একটি হোটেলেও চলছে তল্লাশি। নথিপত্র সহ হোটেলের মালিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরও পড়ুন - অবশেষে ED-র হাতে গ্রেফতার সোনা পাপ্পু! জমি প্রতারণা ও তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগ
কীভাবে প্রকাশ্যে আসে সোনা পাপ্পুর নাম?
জমি প্রতারণা, তোলাবাজির বিভিন্ন মামলায় প্রথম প্রকাশ্যে আসে সোনা পাপ্পুর নাম। ED-র তরফে তাঁকে ৫ বার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যেকবারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন সোনা পাপ্পু। প্রায় সাড়ে ৩ মাস ফেরার ছিলেন সোনা পাপ্পু! তবে পুলিশের খাতায় কলমে ফেরার থাকলেও, দিব্যি ফেসবুক লাইভ করছিলেন সোনা পাপ্পু। তবে তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি বাড়িতেই ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে, তা সবই মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। জমি প্রতারণা আর তোলাবাজির মতো ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই। তবে তদন্তে সহযোগীতা করার জন্যই তিনি নিজে গিয়েছিলেন ED-র অফিসে। অবশেষে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার হন তিনি।
