কলকাতা: আইপ্যাকে ED-র তল্লাশি নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ টিকল না কলকাতা হাইকোর্ট। ED-র দাবিতে সিলমোহর দিয়ে তৃণমূলের মামলার নিষ্পত্তি করে দিল আদালত। ED জানিয়েছিল, আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার দফতর থেকে কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি তারা। যা নিয়ে যাওয়ার তা মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ই নিয়ে গিয়েছিলেন। তাই তথ্য সংরক্ষণের প্রশ্ন ওঠে না। ED-র সেই দাবিই কার্যত বৈধতা পেল। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সংস্থার আর্জি মেনে তাদের মামলাটি আপাতত স্থগিত করা হল। সুপ্রিম কোর্টে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত মামলা স্থগিত রাখতে আবেদন জানিয়েছিল ED. (ED Raids at IPAC)
বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে শুনানি শুরু হতেই ED-র তরফে তাদের দায়ের করা মামলাটির শুনানি স্থগিত রাখতে আর্জি জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি উঠেছে। দু'টির বিষয়বস্তুই একই। তাই সেখানে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টে শুনানি স্থগিত রাখতে আবেদন জানানো হয়। আগের দিন শুনানি স্থগিত হয়ে যাওয়ার সময় তাদের কিছু জানানো হয়নি। তাই আজ মামলা স্থগিত রাখলে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না বলে জানায় ED. (IPAC Case)
অন্য দিকে, প্রতীকের বাড়ি ও আইপ্যাকের দফতর থেকে ED দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছে বলে অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। তাদের দাবি ছিল, গত ছ'বছর ধরে দলের ভোটকুশলী হিসেবে কাজ করছিল আইপ্যাক। সেখানে দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিল। সেখান থেকে গোপন তথ্য নিয়ে যায় ED. ওই সব নথি সংরক্ষণ করা হোক। সেগুলি যেন কোনও ভাবেই প্রকাশ করা না হয়, সেগুলি যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না হয়। সেই মতো নির্দেশ দিক আদালত।
কিন্তু এর পাল্টা ED জানায়, তারা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। যা কিছু সংগ্রহ করা হয়েছিল, তার সবকিছুই ছিনিয়ে নিয়ে যান মমতা। তাই নথি যেখানে বাজেয়াপ্তই করা হয়নি, সংরক্ষণের প্রশ্ন আসে না। ED আরও প্রশ্ন তোলে, কোন স্পর্শকাতর নথি, কোন ব্যক্তিগত তথ্য বাজেয়াপ্ত করেছে ED, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। এই অস্পষ্টতার জন্যও মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয়।
এর পরই প্রাথমিক রায়ে বিচারপতি ঘোষ জানান, আজকের মামলায় শুধুমাত্র গোপনীয় রাজনৈতিক নথি সংরক্ষণের আবেদনই জানানো হয়েছিল। ED যেহেতু জানিয়েছে, তারা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি, ফলে এই মামলার নিষ্পত্তি করে দেওয়া হল। অর্থাৎ তৃণমূলের দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়া হল। ED-র দায়ের করা মামলাটি স্থগিত রাখা হল আপাতত।
আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীকের বাড়ি ও সংস্থার দফতরে ED-র হানা নিয়ে দু'টি মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। দলের গোপন তথ্য, ED হাতিয়ে নিয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ জানায় তৃণমূল। ওই সব তথ্য যাতে প্রকাশ করা না হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যেন ব্যবহার করা না হয়, আবেদন জানিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু ED জানায়, তারা কোনও নথিই বাজেয়াপ্ত করেনি। যা নথি নিয়ে যাওয়ার মমতা নিয়ে গিয়েছেন। এই মামলার নিষ্পত্তি করে দিল আদালত।
অন্য দিকে, ED যে মামলা দায়ের করে, তাতে অভিযোগ করা হয়, তল্লাশি চলাকালীন মমতা পুলিশ নিয়ে এসে, ED-র সংগ্রহ করা সব নথি ছিনিয়ে নিয়ে যান। সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে বলে মুলতুবি রাখা হয়েছে।