কলকাতা: SIR মিটলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে রাজ্যে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযান ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল। বুধবার সকালে নির্বাচনী কৌশল রচনাকারী সংস্থা IPAC সংস্থার অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ED. আর সেখানে নিজে পৌঁছে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে প্রতীকের বাড়িতে খালিহাতে ঢুকে সবুজ ফাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে আসেন মমতা। এর পর, সল্টলেকে IPAC-এর অফিসে ঢোকেন তিনি। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে নথিপত্র তোলা হয়। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও রয়েছেন IPAC-এর অফিসে। (Mamata Banerjee and ED Raids)
সল্টলেক যাচ্ছেন বলে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়ি থেকেই জানিয়ে দেন মমতা। এর পর সটান সল্টলেক ওয়াটার সাইডে IPAC-এর বিল্ডিংয়ে পৌঁছে যান তিনি। সেখানে মমতা আসার আগেই বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সেই অবস্থাতেই প্রবল ধাক্কাধাক্কির মধ্যে ভিতরে ঢোকেন মমতা। সরাসরি বেসমেন্ট দিয়ে হেঁটে ভিতরে ঢোকেন। এর পর চার নম্বর লিফ্ট ধরে ১১ তলায় পৌঁছে যান মমতা। এর পর উপর থেকে বেশ কিছু নথি নিয়ে এসে গাড়িতে তোলা হয়। সেই গাড়ি ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। তবে মমতা IPAC-এর অফিসে ঢুকেছেন কি না, তা অস্পষ্ট। (ED Raids at IPAC Office)
এর আগে, প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি ফাইল ও ল্যাপটক দেখান মমতা। জানান, ED-কে দিয়ে তৃণমূলের দলের ভিতরকার খবর, দলের রণনীতি, রণকৌশল এবং দলের প্রার্থিতালিকা হাতানো চেষ্টা হচ্ছে। সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহের দিকে আঙুল তোলেন মমতা। শাহকে তিনি 'নোংরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী' বলে আক্রমণ করেন। সল্টলেকের অফিস থেকে WB065 5555 নম্বরের গাড়িতে কী নথিপত্র তোলা হয়, তা জানা যায়নি, তবে তৃণমূলের দলীয় নথিপত্রই রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এদিন সল্টলেকে IPAC অফিসে পৌঁছন তৃণমূলের সুজিত বসু, কৃষ্ণা রায় এবং তৃণমূলের অন্য নেতানেত্রীরা। জানান, কারও নির্দেশে সেখানে আসেননি তাঁরা। দলীয় কাজকর্মে প্রায়শই সেখানে আসতে হয় তাঁদের। সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন কৃষ্ণা। পুরনো কয়লাকাণ্ডকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে নিশানা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন।
এদিন সল্টলেকে বিধাননগর পুলিশের বিরাট বাহিনী পৌঁছয়। পৌঁছে যায় RAF-ও। অন্য দিকে, মমতা পৌঁছনোর আগেই সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। বেশি সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছয়। নীচের তলা ঘিরে দেওয়া হয় দড়ি দিয়ে। অর্থাৎ, একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়ানো হচ্ছে, তেমনই বাড়ানো হচ্ছে রাজ্য পুলিশ।