কলকাতা: আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল জবাব চলছে। সেখানে ফের নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় সংস্থার সক্রিয়তার প্রসঙ্গ উঠল। নির্বাচনের মুখেই কেন তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং সংস্থার দফতরে হানা দিল ED, প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের আইনজীবী। পাল্টা সলিসিটর জেনারেল জানান, পশ্চিমবঙ্গে কোনও নির্বাচন নেই এখন। (ED Raids IPAC)
বৃহস্পতিবার বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিপুল এম পাঞ্চোলির এজলাসে শুনানি শুরু হয়। সেখানে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী তরফে কপিল সিব্বল বলেন, "২০২১ সাল থেকে তৃণমূলের জন্য কাজ করছে আইপ্যাক। তাদের কাছে দলের গোপন নথি আছে। নির্বাচনের আগে সেখানে যাওয়ার কী প্রয়োজন ছিল ED-র। ২০২৪ সাল থেকে মামলা ED-র কাছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে যাওয়ার কী দরকার?" (IPAC Case)
সিব্বল আরও জানান, ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কয়লা দুর্নীতি নিয়ে শেষ বিবৃতি মিলেছিল। তার পর থেকে কী করছিল ED, প্রশ্ন তোলেন তিনি। সিব্বল বলেন, "নির্বাচনের মুখে এত আগ্রহ কেন? আগে তথ্য হাতিয়ে নিলে, নির্বাচনী লড়াই হবে কী করে। দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে ওঁর (মমতার) যাওয়ার অধিকার আছে। ভিডিও দেখালেই মিথ্যার পর্দাফাঁস হয়ে যাবে। আমরাও অত্যন্ত বিচলিত। দলের তথ্য যেখানে রয়েছে, দলের পার্টি অফিসের সেই অংশে কেন যাবে ED?"
আদালতে সিব্বল জানান, বেলা ১২টা বেজে ৫ মিনিট পর্যন্ত কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। প্রতীক জৈনের ল্যাপটপে নির্বাচনের সব তথ্য ছিল। উনি (মমতা) ল্যাপটপ এবং ব্যক্তিগত ল্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে আসেন। কোনও বাধাদান হয়নি। ED নিজে সই করেছে। পঞ্চনামা এবং পিটিশনে তোলা অভিযোগও ভিন্ন। এতে বিচারপতি মিশ্র বলেন, "আপনার দাবি পরস্পর বিরোধী। কিছু নেওয়ার থাকলে, তা বাজেয়াপ্ত করা হতো। কিন্তু কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।" ED ছবিও তো তুলে রাখতে পারে, এই প্রশ্নও তোলেন সিব্বল। এতে সলিসিটর জেনারেল বলেন, "উনি (মমতা) মিডিয়াকে তথ্যসমূহ দেখিয়েছেন।"
নির্বাচনের সময় ED-কে যেতে হল কেন প্রশ্ন তোলেন সিব্বল। তাঁর এই মন্তব্য়ের বিরোধিতা করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা, যিনি কেন্দ্রীয় সরকার এবং ED-র হয়ে সওয়াল করছেন শীর্ষ আদালতে। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে কোনও নির্বাচন নেই।" তাঁকে খোঁচা দিয়ে সিব্বল বলেন, "এঁদের তথ্যের স্তরই এমন।" জবাবে মেহতা বলেন, "একদম, এখন পশ্চিমবঙ্গে কোনও নির্বাচন নেই।" তাতে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “অর্থাৎ সলিসিটর জেনারেল বলছেন, নির্বাচনের সময় তছরুপ হলে তাঁদের দোষ কী?” তাতে সিব্বল বলেন, “২০২৪ সালে ED কিছু করেনি। তাহলে সার্কুলার জারি হওয়া উচিত যে CBI এবং ED নিজেদের পছন্দের সাংবাদিকদের তথ্য জোগাতে পারবে না।” সলিসিটর জেনারেল সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারের উপরও বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলেন।
ভোর ৬টা থেকে যেখানে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়, পুলিশকে ১১.৩০টা নাগাদ, প্রায় পাঁচ ঘণ্টাপর পুলিশকে তল্লাশির কথা ED জানায় বলেও রাজ্যের তরফে জানানো হয়। যদিও ED-র দাবি, পুলিশকে জানিয়েই তল্লাশি চলছিল। কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি বিঘ্নিত হওয়া নিয়েও বিরক্তির কথা বুঝিয়ে দেয় আদালত। রাজ্যের তরফে আবারও সওয়াল করা হয়, হাইকোর্টে কেন শুনানি হবে না?