আবির দত্ত ও রঞ্জিত সাউ, কলকাতা : সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে এবার অভিযোগকারীকে তলব। তলব পেয়ে ED দফতরে হাজিরা দিলেন অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তী। জমা দিলেন, বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ, অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং।
এবার কি আরও চাপে পড়তে চলেছেন তৃণমূল নেতা সব্য়সাচী দত্ত? সল্টলেকের এক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে ১ কোটি টাকার বেশি তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিল বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্য়সাচীর বিরুদ্ধে। যাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়, সেই অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তী শুক্রবার হাজির হন সল্টলেকে ED দফতরে। ED সূত্রে খবর, অভিযোগের সাপেক্ষে কী কী তথ্য-প্রমাণ অভিযোগকারীর কাছে রয়েছে, তা নিয়ে এদিন তাঁকে তলব করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ED দফতরে আসেন ওই ব্যবসায়ী। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর CGO কমপ্লেক্স থেকে বেরোন অভিযোগকারী। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তী বলেন, গ্রেফতার হোক সব তোলাবাজ। আবার ডাকলে আসব। ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তীর অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি টাকার বেশি তোলা চেয়েছিলেন তৃণমূল নেতা ও বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্য়ান সব্যসাচী দত্ত।
সম্প্রতি অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তী দাবি তুলে বলেছিলেন, আমার কাছে উনি এই আড়াই লক্ষ টাকার পরে ১ কোটি টাকা ওঁর (সব্যসাচী দত্তর) ওঁর রোজ বায়না ছিল। বাড়ি করতে গেলে টাকা দিতে হবে। বাড়ি ভাঙতে গেলে টাকা দিতে হবে। বাড়ি কিনতে গেলে টাকা দিতে হবে। বেচতে গেলে টাকা দিতে হবে। না দিলে মারবে।এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ জুন ,সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ সব্যসাচী দত্তের রাজারহাটের ফ্ল্যাটে পৌঁছয় বিধাননগর থানার পুলিশ। সেখানে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাত ১০টা নাগাদ ফ্ল্যাট থেকে আটক করে সব্যসাচী দত্তকে বিধাননগর উত্তর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সেখানে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ১টা নাগাদ গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, সব্য়সাচী দত্তর কোটি কোটি টাকা ও প্রচুর সোনার হদিশ মিলেছে। নদিয়ার তেহট্টে, সব্যসাচী দত্তর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেত্রী টিনা সাহা ভৌমিকের বাড়ি ও ব্য়াঙ্কের লকার থেকে উদ্ধার হয় ৬ কেজি সোনা ও দেড় কেজি-র কাছাকাছি রুপো। তোলাবাজিকাণ্ডে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত গ্রেফতার হতেই খুলে যায় প্য়ান্ডোরার বাক্স।সামনে আসতে শুরু করে একের পর এক অভিযোগ, ভাইরাল হয় একাধিক অডিও ক্লিপ। যাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার হন সব্যসাচী দত্ত, তিনিই প্রকাশ্যে আনেন একের পর এক অডিও, ভিডিও।সেই সব অডিও-ভিডিও ক্লিপের পাশাপাশি, অন্যান্য নথি এদিন CGO কমপ্লেক্সে জমা দেন অভিযোগকারী।
