কলকাতা: ভোটের আগে ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বিধানসভা ভোটের আগে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের তলব করল ইডি। এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগামী সোমবার দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে তলব করেছে ইডি। তার ঠিক ২ দিন পর, অর্থাৎ বুধবার খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকেও তলব করল ইডি।
এর আগে এই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুর বাড়ি-অফিস এমনকি তাঁর ছেলের রেস্তোরাঁয় তল্লাশি চলেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সুজিত বসুর স্ত্রী-মেয়ে-ছেলে-প্রাক্তন জামাইকেও এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এবার সেই একই মামলায় সুজিত বসুকেও তদন্তে ডেকে পাঠাল ED। খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতেও এর আগে তল্লাশি চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এবার ভোটের আগে রথীন ঘোষকেও তলব করল ED। এই খবর ছড়িয়ে পড়তে শোরগোল পড়ে যায় গোটা বাংলায়।
ভোটের আগে ফের ED তলবের মুখোমুখি রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী। সুজিত বসু ও খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের পাশাপাশি তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারকেও জমি দখলের মামলায় তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। সুতরাং বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের সক্রিয়তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলেও।
ED সূত্রে খবর, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে এর আগে একাধিকবার চার্জশিট জমা পড়েছে। আধিকারিকরা বহুবার সুজিত বসু ও খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতেও তল্লাশি অভিযানও চালিয়েছেন। পাশাপাশি সুজিত বসুর অফিস এবং তাঁর ছেলের রেস্তোরাঁতেও তল্লাশি চালান হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ED-র তরফ থেকে জানান হয়েছিল যে, মূলত টাকার লেনদেন ও কীভাবে টাকা মানি লন্ডারিং করা হয়েছে, সেই তথ্যকে সামনে রেখেই তারা তদন্ত চালাচ্ছে এবং তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। তাই রাজ্যের দুই মন্ত্রী, অর্থাৎ দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ও খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। উল্লেখ্য, SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের সময় অয়ন শীলকে প্রথম গ্রেফতার করেছিল CBI। তল্লাশির সময় অয়ন শীলের অফিস থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু ওএমআর শিট। আর এখান থেকেই পুরসভার নিয়োগের দুর্নীতির হদিস পান তদন্তকারীরা। তদন্তে নেমে অনেককে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তে নামে ইডিও। আর এখান থেকেই ফাঁস হয়ে যায় সবকিছু। CBI আধিকারিকরা জানান, অয়নের মাধ্যমে প্রায় ১৬টি পুরসভায় নিয়মবহির্ভূত ভাবে অনেকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।
