কলকাতা: আজ পবিত্র ইদে, রেড রোডের নমাজ পাঠের অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। লন্ডন-বিতর্কের মধ্যেই, মুখ্যমন্ত্রী গতকাল করেছিলেন আবেগঘন পোস্ট। ছিল ফেলা আসা জীবনের লড়াইয়ের কথা। রেড রোডের নমাজ পাঠের অনুষ্ঠানে ফের মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাম-রাম একসঙ্গে কলকাতা থেকে টিকিট কেটে গেছিল। সেখানে গিয়ে আমায় প্রশ্ন করল, তুমি কি হিন্দু ? আমি বললাম, গর্বের সঙ্গে আমি হিন্দু, আমি মুসলিম, আমি শিখ, আমি খ্রীষ্টান। এরা কী চায়, এরা কি ডিভাইড অ্যান্ড রুল চায়? আমি তা চাই না। দেশের জন্য আমার জীবন নিয়োজিত করেছি। প্রতিটি ধর্ম, প্রতিটি জাতি, প্রতিটি সম্প্রদায়, প্রতিটি পরিবারের জন্য আমার জীবন নিয়োজিত। আপনারা ভাল থাকলে, আমরাও ভাল থাকব। যে চিৎকার করে, তাকে চিৎকার করতে দিন। যারা উল্টোপাল্টা কথা বলে, তাদের বলতে দিন। কিন্তু, আপনারা তাদের অমঙ্গল চাইবেন না। ঠিক সময় তাঁদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে। কিন্তু, ওঁদের স্পর্শ করবেন না। ওদের স্পর্শ করার চেষ্টা করলে ওরা গুরুত্ব পেয়ে যাবে', রেড রোডের সভায় বললেন মুখ্যমন্ত্রী।
গতকাল বাম-বিজেপির একের পর এক নিশানার পর মমতা সোশ্যাল পোস্টে লেখেন নানা কথা। 'ছোটবেলায় বাবাকে হারানো' থেকে জীবনের প্রতিটা পদে যুদ্ধ করে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। বলেন, 'ছোট থেকেই লড়াই, সংগ্রামকে আমি কখনও ভয় পাই না। কিন্তু বাংলার কৃতিত্বকে কেউ খাটো করার চেষ্টা করলে বরদাস্ত নয়।'
প্রসঙ্গত অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতার মাঝে ছন্দপতন ঘটেছিল। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন নিয়ে বলতে গেলে, মুখ্যমন্ত্রীকে একের পর এক প্রশ্ন তুলছিল SFI সমর্থকরা। পাল্টা, আর জি করে 'ক্রাউড ফান্ডিং' থেকে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য়মন্ত্রীর সফরসঙ্গী কুণাল ঘোষ সোশাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, অক্সফোর্ডে ছ'টা বাম-রামের পরিকল্পিত অসভ্যতা উড়িয়ে ছক্কা হাঁকালেন মমতা।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের জায়গা নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে তিনি সেখানে গেছিলেন। তাঁর সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, তার কড়া নিন্দা করছি, প্রতিক্রিয়া সৌগত রায়ের। আর জি কর ই্স্যু গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, এটা সত্যি। কিন্তু অক্সফোর্ডে কোনও সাধারণ নাগরিক বিক্ষোভ দেখাননি। দেশকে বেইজ্জত করার জন্য এটা SFI-এর নতুন ছক, পাল্টা অভিযোগ দেবাংশু ভট্টাচার্যর।