কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের পর এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ রাজ্য বিজেপি। মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সক্ষে সাক্ষাৎ করবেন রাজ্য বিজেপির প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার, অমিত মালব্য, ওম পাঠক ও শমীক ভট্টাচার্য।
আগে ছিল শুধু তৃণমূল, এবার ভুয়ো ভোটার তরজায় আসরে নামল বিজেপিও। কোথাও মিলছে না ছবি, কোথাও আবার একই ব্যক্তির নাম দুই জায়গায়। বাংলায় মাটিতে ১৭ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ তুলে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানাতে চলেছে বিজেপি। আগামী ১১ মার্চ দিল্লিতে, মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্যরা। ভোট দানে বায়োমেট্রিক চালু করার জন্য আবেদনও জানাবেন সেখানে। বাংলায় ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ভুয়ো ভোটার মুক্ত ভোটার তালিকার দাবি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, ১১ মার্চ বিকেল ৪ ভুয়ো ভোটারের নামের তালিকা জমা দেওয়া হবে। বাংলায় ভোটার তালিকায় ১৭ লক্ষের বেশি ভুয়ো ভোটারের নাম রয়েছে বলে দাবি রাজ্য বিজেপির সভাপতির। বিজেপির অভিযোগ, 'কোথাও মিলছে না ছবি, কোথাও দুটি জায়গায় নাম। ১৭ লক্ষের নাম কমিশনের কাছে জমা দেব।' এরই মধ্যে, শুক্রবার, ফের এপিক নম্বর বিভ্রাটের সমাধানের আশ্বাস দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৩ মাসের মধ্যেই সরানো হবে এই ডুপ্লিকেট এপিক নম্বর। এদিকে, শুক্রবারই এই ভুয়ো ভোটার প্রসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিল কংগ্রেস। প্রেস বিবৃতিতে কংগ্রেসের দাবি, ১৭ বছর আগে, 'ভোটার আইডি গুলি ইউনিক' বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই কমিশনই এবার এই সমস্যাকে 'দশকের সমস্যা' বলছে, তবে কেন কমিশনকে বিশ্বাস করবেন একজন সাধারণ ভোটার?
এদিকে বাগদার এক তৃণমূল কর্মীর ভারত ও বাংলাদেশ, দু'দেশের ভোটার তালিকাতেই নাম রয়েছে বলে অভিযোগ। নথি সামনে এনে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছে বিজেপি। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার বয়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের মালিদার বাসিন্দা সহিদুল বিশ্বাস। এই দুটি নথি দেখিয়ে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতির দাবি, তৃণমূল কর্মী সহিদুল আদতে যশোরের চৌগাছার বাসিন্দা। বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও ভারতের ভোটারকার্ড পেয়ে গিয়েছেন তিনি। বিজেপির আরও অভিযোগ, নথি-সহ বিষয়টি জেলাশাসককে জানানো সত্ত্বেও কোনও জবাব মেলেনি। অভিযোগ উড়িয়ে সহিদুল বিশ্বাসের দাবি, জন্মসূত্রে তিনি, তাঁর বাবা ও ঠাকুর্দা এদেশেরই বাসিন্দা। প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি বিবাদের কারণে এই মিথ্যাচার বলে দাবি তাঁর। তৃণমূলের বয়রা অঞ্চল সভাপতির দাবি, সহিদুল তৃণমূল কর্মী নন, তবে প্রকৃত অর্থেই তিনি ভারতীয় ভোটার। বিজেপি ভুয়ো নথি দেখিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছে বলে দাবি তৃণমূলের।
আরও পড়ুন: Jadavpur Case Update: স্থিতিশীল ইন্দ্রানুজ, কবে হাসপাতাল থেকে মুক্তি? জানিয়ে দিল কর্তৃপক্ষ