পার্থপ্রতিম ঘোষ, ব্রতদীপ ভট্টাচার্য ও সুকান্ত ভট্টাচার্য : কয়লা-পাচার মামলায় আইপ্য়াক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি-অফিসে ED-র অভিযান ঘিরে রাজ্য় রাজনীতি তোলপাড়। ED-র দাবি, আইপ্যাকও হাওয়ালা টাকার সঙ্গে জড়িত। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়লা পাচারের কোটি কোটি টাকা তছরুপে যুক্ত একজন হাওয়ালা অপারেটর, আই প্য়াক-কে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের ব্য়বস্থা করে দেয়। সেই সূত্র ধরে, তল্লাশি অভিযান।
লাউডন স্ট্রিট থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, প্রায় ১২ কিলোমিটার রাস্তা। বিধানসভা ভোটের আগে এই পথটুকু ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য়-রাজনীতি। আইপ্য়াক কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে ED-র তল্লাশি, পাল্টা মুখ্য়মন্ত্রীর প্রবেশ, হুঙ্কার...নথি বাইরে বেরোনো...কী করে বেরোলো তা নিয়ে প্রশ্ন! পাল্টা বিবৃতি দিয়ে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে ED-র চাঞ্চল্য়কর দাবি। শীতের লক্ষ্মীবারে জমজমাট রাজনীতি! I-PAC-এর অফিস থেকে বেরিয়ে মমতা বললেন, "IT অফিস, I-PAC অফিস, তারা কীভাবে এটা করতে পারে? আমি যদি তাদের পার্টি বা IT অফিসে তল্লাশি করি, সেটা কি ঠিক হবে ?"
কয়লাকাণ্ডের একটি পুরনো মামলায় গতকাল তল্লাশি চালায় ED। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, কয়লাকাণ্ডের তদন্তে বৃহস্পতিবার, পশ্চিমবঙ্গের ৬ জায়গায় এবং দিল্লির ৪ জায়গায় অভিযান চালানো হয়। বিবৃতিতে ED জানিয়েছে, CBI-এর ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বরের একটি মামলা, যেখানে, অনুপ মাজি সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তার ভিত্তিতে, ED একটি ECIR রেকর্ড করে। ED-র দাবি, অনুপ মাজির নেতৃত্বে কয়লা পাচার চক্র পশ্চিমবঙ্গের ECL-এর লিজ নেওয়া এলাকা থেকে বেআইনিভাবে কয়লা চুরি ও উত্তোলন করত। তদন্তে হাওয়ালা-যোগেরও প্রমাণ মিলেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়লা পাচারের কোটি কোটি টাকা তছরুপে যুক্ত একজন হাওয়ালা অপারেটর, ইন্ডিয়ান প্য়াক কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেডকে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের ব্য়বস্থা করে দিয়েছে। আইপ্যাকও হাওয়ালা টাকার সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি।
ED-র দাবি, তারই সূত্র ধরে, আইপ্য়াক কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে চলে তল্লাশি অভিযান। কিন্তু মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বক্তব্য, "আমার IT সেক্টরের অফিস এবং IT সেক্টরের ইনচার্জের বাড়িতে হানা দিয়েছে ED. আমাদের দলের সব হার্ড ডিস্ক, প্রার্থী তালিকা, দলের রণকৌশল, দলের পরিকল্পনা হাতাতেই ED-র এই হানা।"
পাল্টা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, "I PAC কি পার্টি অফিস নাকি? I PAC একটা কর্পোরেট সংস্থা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তদন্ত করবে, তারা দেখিয়ে দেবে কাগজপত্র। পরিষ্কার থাকলে তো, সবার অফিস-বাড়ি তল্লাশির পরে তো গ্রেফতার হয় এমন তো নয়। ফেস করবে।" সন্ধেয় সেক্টর ফাইভ থেকে ইডির অফিসাররা বেরোনোর পর তাঁদের বিরুদ্ধে অমিত শাহের নাম করে স্লোগান দেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা!