আবির দত্ত, কলকাতা : NIA দফতরে হাজিরা ব্যবসায়ীর। হাজিরা দিলেন মোমিনপুরের ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিক। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত সিআরপিএফ জওয়ান মোতিরাম জাঠের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সূত্রে NIA-র টিম হানা দিয়েছিল কলকাতার মোমিনপুরের ওই ট্র্যাভেল এজেন্সির অফিসে। সেই এজেন্সির মালিক, ব্যবসায়ীই এবার হাজিরা দিলেন এনআইএ দফতরে। সিআরপিএফ জওয়ান মোতিরাম জাঠ- র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকবার টাকা ঢুকেছিল যার লিঙ্ক খুঁজে পাওয়া গেছে এই ব্যবসায়ীর একাউন্টে। গত শনিবার তাঁর ট্র্যাভেল এজেন্সির অফিসে NIA হানা দেয়। বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরবর্তী ক্ষেত্রে এনআইএ-র তরফ থেকে তলব করা হয় ব্যবসায়ীকে। সেইমতো আজ বেলা ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ এনআইএ দফতরে যান ব্যবসায়ী। 

মাসুদ আলম নামের এই ব্যবসায়ীকে তাঁর মোমিনপুরের ট্র্যাভেল এজেন্সির অফিসে গিয়ে ইতিমধ্যেই একদফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনআইর- র টিম। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা এসেছিল। এনআইএ সূত্রে খবর তা পাকিস্তান থেকে হতে পারে। অন্যান্য দেশ থেকেও হতে পারে। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে এই টাকা পাঠানো হয়েছিল কিছু ব্যক্তিকে। সেই দলেই ছিলেন সিআরপিএফ জওয়ান মোতিরাম জাঠ। এনআইএ- র দাবি, টাকা পাঠানো হয়েছিল কারণ তার বিনিময়ে ছবি, ভিডিও এবং তথ্য চাওয়া হয়েছিল। সিআরপিএফ জওয়ানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরেই মোমিনপুরের ট্র্যাভেল এজেন্সিতে হানা দিয়েছিল এনআইএ- র টিম। 

ইতিমধ্যেই ভারতের ৮ রাজ্যের ১৫ জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার টিম। হদিশ মিলেছে ১০০-রও বেশি এমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যেখানে বিদেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় পাকিস্তান এবং বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশই থাকতে পারে বলে জানাচ্ছে এনআইএ। এইসব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মূলত টাকা পাঠানো হয়েছিল গুপ্তচরবৃত্তি করার জন্যই, এমনটাই অনুমান গোয়েন্দাদের। সরাসরি টাকা না পাঠিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে টাকা পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন মাসে, বিভিন্ন দফায়, বিভিন্ন পরিমাণে টাকা এসেছে। এই গোটা চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, কোথা থেকে কোথায় কত টাকা এসেছে, কী ছিল তার উদ্দেশ্য, সবটা জানতেই তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ, তল্লাশি অভিযান। 

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ মে মাসে গ্রেফতার হয়েছেন সিআরপিএফ- এর এএসআই মোতিরাম জাঠ। পহেলগাঁও হামলার ৫-৬ দিন আগেই সেখান থেকেই ট্রান্সফার হয়েছিল তাঁর। মোতিরামকে জাঠকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।