কলকাতা: বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ করতে হাওড়া (Howrah) ও শিয়ালদা স্টেশনের (Sealdah Station) বাইরে চলল অভিযান। ফাঁকা করে দেওয়া হল প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন চত্বর। রেলের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন যাত্রীরা। 

Continues below advertisement

এমনিতেই প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর আনাগোনা। ঘিঞ্জি, সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত ব্যাগপত্র নিয়ে পৌঁছনোই কার্যত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল যাত্রীদের কাছে। এবার হাওড়া স্টেশনের বাইরে চলল বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ অভিযান। 

শনিবার রাতে বুলডোজার নিয়ে গিয়ে খালি করে দেওয়া হল হাওড়া স্টেশনের বাইরের চত্বর। বেআইনি দখলদার মুক্ত করতে যৌথভাবে অভিযান চালাল আরপিএফ ও জিআরপি। প্যাসেঞ্জার যারা আছেন, স্টেশন চলে যান। যার বাস ধরার বাস ধরুন। এখানে কোনও নাটক হচ্ছে না। আপনারা নিজেদের কাজ করুন প্লিজ। প্রশাসনকে প্রশাসনের কাজ করতে দিন। খালি করে দেওয়া হয় হাওড়া স্টেশনের বাইরের চত্বর।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, এবার কর্মীদের চাঙ্গা করতে পথে নামবেন মমতা, নিজেই রং করবেন তৃণমূল অফিস!

এক ট্রেনযাত্রীদের কথায়, 'হকার নেই। ফাঁকা রাস্তা। ক্লিয়ার আছে। কোনও অসুবিধা নেই। আগে একটু জ্যাম হত আর কি।' আরেক ট্রেনযাত্রীর কথায়, 'খুব ভাল লাগছে। জনসাধারণের পক্ষে ১০০ ভাগ সুবিধা। এখান থেকে ওখানে যেতে ১৫ মিনিট - ২০ মিনিট সময় লাগত।' 

শুক্রবারই আরপিএফ-এর তরফে দোকানদারদের সরে যাওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়। বেশিরভাগ দোকানদার না সরায়, শনিবার রাতে ভেঙে ফেলা হল জবরদখল। 

এক পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কথায়, 'রেলের জায়গা, সরকারি জায়গা। সব জায়গায় বসে আছে। কিছু লোক টিএমসি-র সহযোগিতায়, টিএমসির নেতা, ফড়ে, দালাল, গুন্ডা, তাঁরা সরকারি জায়গাকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে লাভ নিচ্ছে। সেগুলো আস্তে আস্তে পরিষ্কার হবে।' 

শুধু হাওড়া নয়, শিয়ালদা স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের ওপরে থাকা বেআইনি দোকানও ভেঙে ফেলা হয়। শনিবার রাতে শিয়ালদা স্টেশনের বাইরেও সরিয়ে দেওয়া হয় বহু অস্থায়ী দোকান। 

এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, বাংলা 'বুলডোজার রাজনীতি'তে বিশ্বাসী নয়। সংস্কৃতি, সহমর্মিতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠা এই রাজ্যে—বুলডোজার কখনই শাসনের ভাষা হয়ে উঠতে পারে না।

পূর্ব রেল সূত্রে খবর, বিভিন্ন সময়ে ট্রেন মিস হয়ে যাওয়ায়, দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীরা অভিযোগ করছিলেন। এরপরই দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।