কমলকৃষ্ণ দাস, পূর্ব বর্ধমান: বিবাহের প্রায় ১৮ বছর পর পরিত্যক্তা স্ত্রীর কাছে ফিরে মোটা টাকার দাবি। টাকা দিতে অস্বীকার করায় স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল বর্ধমানের রথতলা পদ্মপুকুর এলাকায়। মৃতের নাম শিবানী দাস (৫৩)।                                        

Continues below advertisement

মৃতার পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ষাটোর্ধ্ব সঞ্জয় পালকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতকে আজ বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়েছে।                                  

মৃতার পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ বছর আগে হাওড়া সালকিয়ার বাসিন্দা সঞ্জয় পালের সঙ্গে বিবাহ হয় শিবানী দাসের। বিবাহের পর থেকেই নানা কারণে শিবানী দাসকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হত বলে অভিযোগ। বিবাহের ছয় মাসের মধ্যে গর্ভবতী অবস্থায় শিবানী দাসকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হলে সেই থেকেই শিবানী দাস রথতলা পদ্মপুকুর এলাকায় তার বাপের বাড়িতে বসবাস শুরু করে এবং এখানেই তার একটি কন্যা সন্তান হয়।                           

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, তরমুজ খেয়ে মৃত্যুর কোলে কিশোর! আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরও ৪, বিয়েবাড়িতে মর্মান্তিক ঘটনা

সেই ঘটনার প্রায় ১৭ বছর পর গতকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ হঠাৎই সঞ্জয় পাল শিবানী দাসের কাছে আসে এবং মোটা টাকা দাবি করে, সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে সঞ্জয় পাল শিবানী দাসকে একাধিকবার দা-এর কোপ মারে। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এলে সঞ্জয় পাল শিবানী দাসের নিকট আত্মীয় রুদ্র দাসকেও কোপ মারার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।             

এরপর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা প্রতিরোধ করতেই সঞ্জয় এলাকা ছাড়ে। গুরুতর জখম অবস্থায় শিবানী দাসকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।    

এরপর ঘটনার বিবরণ জানিয়ে বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ করেন শিবানী দাসের ভাই গৌতম দাস। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্ত সঞ্জয় পালকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ।