কলকাতা: বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল আতঙ্কে। তরমুজ খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে ৫ শিশু। তাঁদের মধ্যে এক ১৫ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তীসগঢ়ের Janjgir-Champa জেলার Ghurkot গ্রামে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

Continues below advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিল কয়েকজন শিশু। সেখানে রাখা কাটা তরমুজ খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় বমি, পেটব্যথা ও শারীরিক অসুস্থতা (Watermelon Poisoning Symptoms)। দ্রুত শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে এক কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

অসুস্থ আরও চার শিশুর চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা bacterial contamination-এর কারণেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও ফরেন্সিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Continues below advertisement

স্থানীয় পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতর যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। তরমুজটি দীর্ঘক্ষণ কাটা অবস্থায় রাখা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। সেই কারণেই সংক্রমণ বা বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুম্বইয়েও তরমুজ খাওয়াকে কেন্দ্র করে একাধিক অসুস্থতার ঘটনা সামনে এসেছিল। ফলে এই ঘটনার পর খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। (তরমুজ খেয়ে মৃত্যু: তরমুজে বিষ আছে কি না বুঝবেন কীভাবে? সাবধান হোন)

আরও পড়ুন, বিরিয়ানি-তরমুজ খেয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু গোটা পরিবারের! এক রাতের মধ্যে সব শেষ!

সোমবার বিকেলে ঘুরকোট গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। বাড়িতে রাখা তরমুজ খাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই শিশুরা বমি করতে, তীব্র পেটে ব্যথার কথা বলতে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট পেতে শুরু করলে হাসি-ঠাট্টা ও বিয়ের পরের উৎসব দ্রুতই বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়। পরিবারের সদস্যরা যখন তাদেরকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়, ততক্ষণে ১৫ বছর বয়সী অখিলেশ ধীওয়ার আর কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। পরে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কী বলছেন চিকিৎসকেরা?

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ কাটা ফল বাইরে রাখা হলে তাতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। গরমের সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্য বিষক্রিয়া (Food Poisoning)

আকস্মিক অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনাটি খাদ্য বিষক্রিয়ার আশঙ্কা তৈরি করায় জেলা প্রশাসন একটি জরুরি তদন্ত শুরু করেছে। শিশুদের খাওয়া তরমুজ ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করার জন্য চিকিৎসকেরা ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাকি চার শিশুর অবস্থা স্থিতিশীল, তবে তারা নিবিড় চিকিৎসাধীন রয়েছে।