ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা : তেলঙ্গনার পর এবার এ রাজ্যেও 'অ্যালমন্ট-কিড সিরাপ' নিষিদ্ধ করল রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল। রাজ্যে এই সিরাপ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা। রাজ্যের সমস্ত সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালকে নির্দেশ, 'অ্যালমন্ট-কিড সিরাপ' ব্যবহার না করার। কিন্তু কীভাবে তৈরি হল এই সিরাপ? আগে কেন সতর্কতা নেওয়া হয়নি? প্রশ্ন তুলেছে চিকিৎসকদের একাংশ।
কাফ সিরাপকাণ্ডে আগেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র ও রাজ্যের Drug Control.৩ ভারতীয় সংস্থার বিরুদ্ধে গ্লোবাল অ্যালার্ট জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কিন্তু তার পরেও রাশ টানা যাচ্ছে না জাল ও নিম্নমানের ওষুধে! পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ রাজ্যেও 'অ্যালমন্ট-কিড সিরাপ' নিষিদ্ধ করল রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল। রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিহারের হাজিপুরের কারখানায় তৈরি 'অ্যালমন্ট-কিড সিরাপ'-এর নির্দিষ্ট একটি ব্যাচের মধ্যে বিষাক্ত 'ইথিলিন গ্লাইকলের' উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যা শিশুদের কিডনিকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত করে। ওষুধটি কোনওভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু কীভাবে তৈরি হল এই সিরাপ? আগে কেন সতর্কতা নেওয়া হয়নি? প্রশ্ন তুলেছে চিকিৎসকদের একাংশ।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অপূর্ব ঘোষ বলেন, এরকম ভাবে তৈরি হয়ে যাওয়ার পর যদি এরকম বেরোয়, তৈরি হওয়ার পর এরকম!এর আগে এই নিয়ে রাজ্যগুলিতে সতর্ক করেছিল কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল। সেই সতর্কবার্তায় বলা হয় বিহারে তৈরি ওষুধ বিশেষ একটি কিড কাফ সিরাপে ভেজাল পাওয়া গিয়েছে। যা শিশুদের কিডনির ক্ষতি করতে পারে। সেই সতর্কতা মেনে, গত সপ্তাহেই তেলঙ্গানায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে 'অ্যালমন্ট-কিড সিরাপ'। সেই পথে এবার এই সিরাপ বিক্রি নিষিদ্ধ হল পশ্চিমবঙ্গেও।এর আগে, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে অন্তত ২৪ জন শিশুর মৃত্যুর পর কাফ সিরাপ নিয়ে দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিরাপকাণ্ডের তদন্তে নেমে এই 'ইথিলিন গ্লাইকলের' হদিশ পাওয়া যায়। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ প্রিয়ঙ্কর পাল বলেন, নাম জানি না, প্রয়োজনীয় মলিকিউল, নজরদারি বাড়াতে হবে। তৈরির সময় দেখতে হবে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাজ্যের কোথাও কোনওমতেই এই সিরাপ বিক্রি করা যাবে না। রাজ্যের সমস্ত সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল গ্রহণ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই সিরাপ যাতে ব্যবহার না করা হয়। কাফ সিরাপ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপের পর,হাই রিস্ক সলভেন্ট বা বিপজ্জনক দ্রবণ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির ওপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্য়ান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন। কিন্তু তার পরেও সামনে এল বিষাক্ত কাফ সিরাপ!