সমীরণ পাল, সুদীপ চক্রবর্তী ও সুনীত হালদার, কলকাতা: জেলায় জেলায় SIR শুনানিকেন্দ্রে ডাক পাওয়া মানুষজনের মুখে উঠে আসছে অভিযোগের লম্বা ফিরিস্তি। কেউ বলছেন শেষমুহূর্তে শুনানিতে ডাক পেয়ে ছুটতে ছুটতে আসতে হয়েছে। কোথাও আবার দেখা গেল, চলাফেরায় অক্ষম হওয়ায় নিজের গ্যাঁট থেকে মোটা টাকা খরচ করে গাড়ি ভাড়া করে আসতে হচ্ছে শুনানি কেন্দ্রে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের ওপরেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ভুক্তোভোগীরা।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, জ্ঞানেশ কুমারের জন্য একটা নতুন প্রকল্প বাংলায় চালু করতে হবে, ছানি অপারেশন 'ছানিশ্রী', তীব্র কটাক্ষ অভিষেকের

Continues below advertisement

SIR শুনানিতে ডাক পাওয়া ডোমজুড়ের এক বাসিন্দা আকবর আলি ক্ষোভ উগরে বলেছেন, এটা নির্বাচন কমিশন নয়, নির্যাতন কমিশনে পরিণত হয়েছে।'SIR-শুনানির ডাক শুনে কেউ নথি নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে পৌঁছচ্ছেন। অশক্ত শরীরে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছতে কারও আবার ছুটে যাচ্ছে কালঘাম! অনেককেই চরম ভোগান্তি-হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে!এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের একটা বড় অংশে চলল বিক্ষোভ।বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কোচবিহার, উত্তর ২৪ পরগনা, বজবজ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, SIR শুনানি নাকি হয়রানি?ইসলামপুরে SIR-এ ডাক পাওয়া বাসিন্দা ইসলামউদ্দিন বলেন,কালকে হিয়ারিং। আজকে নোটিস দিয়েছে। এখনও কাগজপত্র পাইনি আমরা।

 উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়  বিশেষভাবে সক্ষম এই যুবকের অভিযোগ, মোটা টাকা খরচ করে টোটো ভাড়া করে আসতে হয়েছে তাঁকে।এই আবহে কড়া সমালোচনার মুখে নির্বাচন কমিশন।নিত্য় নতুন নিয়ম। কোনওটা যোগ করা, কোনওটা বাদ দেওয়া!বিএলও থেকে শুরু করে, সাধারণ মানুষ, কাউকে ঠিকমতো না বুঝিয়েই এসআইআর করে দেওয়া..চরম সমালোচনার মুখে পড়ছে নির্বাচন কমিশন।SIR আবহে একদিকে চরম হয়রানি সাধারণ মানুষের একাংশের।অন্য়দিকে থেমে নেই রাজনৈতিক তরজাও।

 তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "১৬-১৭-১৮-১৯, যদি কোনও বিজেপির নেতা ERO অফিসে ফর্ম জমা দিতে আসে ১০টার বেশি, তাহলে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সাথে একটু DJ-এও বাজিয়ে দিয়ে DJ-ও শুনিয়ে দেবে, ভদ্রভাবে। " বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "এই শুনানিগুলোর কোনও প্রয়োজন ছিল না। এগুলো হচ্ছে, কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের এই আগ্রসনী নীতির কারণে এবং কার্যত গোটা সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দেওয়ার কারণে।" নানা মহলে প্রশ্ন একটাই, পশ্চিমবঙ্গে SIR করতে কি আদৌও সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে নেমেছিল নির্বাচন কমিশন? না কি রাজ্য়বাসীর ওপর কার্যত পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে তারা?