কলকাতা: ১৯ জুন জন্মদিন। তার আগে বাড়ি ফিরতে চায় সুদেষ্ণা। আপাতত তার ঠিকানা বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতাল। সেখানে একমো-র সাহায্যে বেঁচে থাকার লড়াই করছে অ্যাডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া। বাগুইআটির জ্যাংড়ার বাসিন্দা সুদেষ্ণা বসু জানুয়ারি মাসে অ্যাডিনোয় আক্রান্ত হয়। ৩৫ দিনের ওপর একমো-র সাহায্যে লড়াই করছে ওই কিশোরী। চিকিৎসার খরচ ৪৫ লক্ষ ছাড়িয়েছে। তবু হাল ছাড়েননি LIC-র এজেন্ট সুকান্ত বসু। মেয়ের লড়াইয়ের সঙ্গী হয়েছেন বাবা। সুদেষ্ণার বোন সুদর্শনাও অ্যাডিনো-আক্রান্ত হয়। সেরে উঠে সে-ও দাঁড়িয়েছে দিদির পাশে। বড় মেয়ের চিকিৎসায় আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হতে চললেও এখনও হাল ছাড়েনি জ্যাংড়ার বসু পরিবার। 

অ্যাডিনো-আতঙ্কের মধ্যেই বি সি রায় হাসপাতালে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হল। এছাড়া, আরজি কর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মিলিয়ে সেখানে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জন শিশুর। পুরুলিয়া জেলা হাসপাতাল সূত্রে খবর, ফেব্রুয়ারিতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে ২ মাসে রাজ্যে ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হল। 

অন্যদিকে, জ্বর, নিউমোনিয়া থাকায় গত মঙ্গলবার বি সি রায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বনগাঁ মালঞ্চর বাসিন্দা চারমাসের শিশুকে। ভেন্টিলেশনে থাকাকালীন আজ ভোর ৪টে নাগাদ তার মৃত্যু হয়। একমাস আগে পক্সে আক্রান্ত হয়েছিল ওই শিশু। সেইসময় ভর্তি করা হয় চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যালে। একইসঙ্গে সকাল ৬টা নাগাদ বি সি রায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা ১ বছর ৭ মাসের শিশুকন্যার। জ্বর, শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে গত ৮ দিন ধরে বি সি রায় হাসপাতালের এইচডিইউ-তে ভর্তি ছিল ওই শিশু। 

স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা সত্ত্বেও বিসি রায় হাসপাতালে ছুটির দিনে বন্ধ রইল শিশুদের ARI ক্লিনিক। হাসপাতালে শিশুদের জন্য আলাদা এমার্জেন্সি বিভাগ রয়েছে, তাই পরিষেবায় প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য সচিব। 

সেই মৃত্যু মিছিল, সেই হাহাকার অ্যাডিনোর আতঙ্ক করোনার সেই ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। জেলা থেকে কাতারে কাতারে শিশু রোগী ভিড় করছে কলকাতার হাসপাতালে। আউটডোরের সামনে উপচে পড়া ভিড়.. কেউ সন্তানের জন্য একটা আইসিইউ বেড জোগাড় করতে হন্যে হয়ে ছুটছে। এই পরিস্থিতিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি, নির্দেশিকা জারি করে স্বাস্থ্য দফতর জানায়, সরকারি মেডিক্যাল হাসপাতাল, জেলা ও মহকুমা হাসপাতাল ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গুলোতে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস ক্লিনিক। কিন্তু রবিবার ছুটির দিন একেবারে উল্টো ছবি ধরা পড়ল শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিশু হাসপাতাল বিসি রায়ে।